স্কটল্যান্ডের সাথে হেরে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

টি-টুয়েন্টিতে ফেবারিট দল বলতে আদোতে কিছুই নেই। যেকোন দলই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলে হারিয়ে দিতে পারে যে কোন দলকে। কথাটা বহুল ব্যবহৃত কথা। ম্যাচের আগে এমন কথা প্রায়শই শোনা যায়। গতকাল স্কটল্যান্ডের কোন শেন বার্জারের কথা শুনে এমনটাই মনে হচ্ছিল। তবে সেই কথার সমীকরণ যে একদম হারে হারে মিলে যাবে তা কি বুঝেছে বাংলাদেশ।
এবারের বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের গ্রুপ-এ তালিকায় ফেবারিট বাংলাদেশ। র্যাকিংয়ে এই মুহুর্তে আছে ষষ্ঠ অবস্থানে। স্কটিশদের জন্য তাই এই ম্যাচটি ছিল কঠিন পরীক্ষা। তবুও হাল ছাড়েনি স্কটল্যান্ড, হাল ছাড়েনি তাদের কোচ শেন বার্জার। সংবাদ সম্মেলনে নির্লিপ্ উত্তর, ‘জয় ছাড়া আমরা কিছুই ভাবছি না।’ ছোট মুখে বড় কথা মানায় না। তাই সেই কথা ততটা আমলে নেয় নি টাইগার অধিনায়ক। তবুই সতর্কতার কমতি ছিল না। কিন্তু দিন শেষে শেষ হাসিটা সেই স্কটিশ শিবিরে। মুখের কথাকে বাস্তবে প্রমাণ করে স্কটল্যান্ড আবারো প্রমান করে দিলো আসলেই ক্রিকেটে ফেবারিট বলতে কিছুই নেই।

ওমানের মাসকট আল আমিরাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৬ রানে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। এই হারের মাধ্যমে টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে অনাকাঙ্খিত রেকর্ড করে বসলো বাংলাদেশ। আইসিসির একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপ টি-টুয়েন্টিতে ২০ ম্যাচ হারের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। ২০০৭ হতে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলেছে মোট ২৬ টি ম্যাচ। যার মধ্যে মাত্র পাঁচটি জিতেছে বাংলাদেশ, একটি হয়েছে পরিত্যাক্ত এবং বাকি বিশটিই হেরেছে বাংলাদেশ।

অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই সাইফউদ্দিন-মেহেদীর ধাক্কায় খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল স্কটিশরা। সেই সাথে সাকিবের ঘুর্ণি যাদুতে ৫৩ রানেই ৬উইকেট নেই স্কটল্যান্ডের। একটা সময় মনে হয়েছিল টেনেটুনে ২০ ওভার আর ১০০ করতে পারলেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে স্কটিশরা। কিন্তু দলের এই ক্রান্তি লগ্নে কান্ডারির ভূমিকায় হাজির হলেন ক্রিস গ্রিভস। মার্ক ওয়াটকে সঙ্গে নিয়ে খেললেন ঝড়ো এক ইনিংস। ১৩তম ওভার থেকে স্কটিশরা ওভার প্রতি রান নিয়েছে ১০ এর বেশী যার মূল নায়কই ছিলেন গ্রিভস। ২৮ বলে 45 করা গ্রিভসের ব্যাটে ভর করেই স্কটল্যান্ড পায় ১৪০ রানের লড়াকু এক স্কোরকার্ড। সেই রান সংগ্রহ করতে গিয়েই নাকানি চুবানি খেয়েছে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। জয় থেকে ৭ রান দুরে ১৩৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস আর দ্বিতীয় বারের মত স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বাংলাদেশ পেলে তিক্ত হারের অভিজ্ঞতা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অনেকটা বিধ্বস্ত চেহারাই বলে দিচ্ছে এমন হারের জন্য মোটেই প্র্রস্তুত ছিল না তার দল। মিরপুরের স্লো উইকেটে অষ্ট্র্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ধরাশায়ী হলেও ওমানের মাঠে যে তার দল স্কটল্যান্ডের কাছেই ধরাশায়ী হয়ে গেলো। ড্রেসিংরুমের পাশেই হচ্ছিল সংবাদ সম্মেলনে। স্কটিশদের বিজয় উল্লাসে মাহমুদুল্লাহর কথা ক্রমশ হারিয়েই যাচ্ছিল। দাতে দাত চেপে মুখ বুঝে নিশ্চুপ মুহূর্ত পার করেছেন মাহমুদুল্লাহ। তার জীবনের সবথেকে কঠিন সময়ে কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ দলের কাপ্তান।
১৪১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোচট খায় বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করা সৌম্যকে নামানো হলো নাঈমের পরিবর্তে। কিন্তু সৌম্য যেন তার পুরোনো রুপেই ফিরে গেলেন। ৫ রান করে আউট হওয়ার পরপরই লিটন দাসও হাটলেন একই পথে। এরপর সাকিব আল হাসানের উইকেট কামড়ে লড়াই করে ক্রিজে থাকার চেষ্টা করলেও ততক্ষনে রান রেটে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ।

এদিকে জয় পরাজয়ের হিসেবে বাংলাদেশের থেকে খারাপ অবস্থায় আছে শুধু পাপুয়া নিউগিনি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকং। পাপুয়া নিউগিনি ও আরব আমিরাত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত যতগুলো ম্যাচ খেলেছে তার সবগুলোতেই হেরেছে। অন্যদিকে ছয় ম্যাচ খেলে হংকং হেরেছেছিল পাঁচটিতে। তাদের একমাত্র জয়ছিল ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.