প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানছেন না বাংলাট্র্যাকের প্রধান নির্বাহী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানেনি বাংলাট্র্যাকের নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। করোনাকালীন সময়ে কর্মচারী কর্মকর্তা ছাঁটাই না করতে বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্দেশ ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু বাংলাট্র্যাক কোন ধরনের নোটিশ ছাড়াই সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই করে চলেছে। এমনকি সেখানকার এক নারী কর্মকর্তাকে জোর করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকিয়ে রেখে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশের বাইরে থেকেন। মূলত সিইও এবং চিফ ফাইনানসিয়াল অফিসার (সিএফও) এ দুজনেই কোম্পানি সর্বোচ্চ ক্ষমতা। তারাই ইচ্ছেমত করোনাকালীন সময়েও কর্মকর্তা কর্মচারী ছাঁটাই করছেন। লকডাউনে সময় সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সে সময় প্রায় ৩৬জনকে চাকুরীচূত্য করেন বাংলাট্র্যাকের প্রধান নির্বাহী ইকবাল হোসেন এবং প্রধান হিসাব রক্ষক আব্দুল্লাহীল কাফী।

বর্তমানে আবারো একটি ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন শুরু হওয়ায় অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে একটি অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।

খোজ নিয়ে জানাযায় এছাড়াও কর ফাকির জন্য বাংলা ট্র্যাকের প্রধান নির্বাহী ইকবাল হোসেন ব্যাংকের হিসেবে বেতন কম দেখান। বাস্তবে তার বেতন ব্যাংকের হিসেবের ৪ গুন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের জুন থেকে কর্মকর্তা – কর্মচারী ছাঁটাই শুরু করে বাংলাট্র্যাক গ্রুপের সিস্টার প্রতিষ্ঠান বাংলাক্যাট। সেখানে প্রায় ১২ বছর ধরে কর্মরত রেজিনা সুলতানাকে রিজাইন করতে বলা হয়। তিনি রাজি না হওয়াতে তাকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে সিকিউরিটি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে তার ই-মেইলে টার্মিনেশন লেটার পাঠিয়ে দেয়া হয়। রেজিনা সুলতানার সঙ্গে খুবই অমানবিক আচরণ করেছেন তারা।

রেজিনা সুলতানা জানান, ২০০৮ সালের ১ নভেম্বরে তিনি বাংলাক্যাটে যোগদান করেন। প্রায় ১২ বছর তিনি এখানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করেন। সর্বশেষ তিনি সেখানকার সিএমও (চীফ ম্যানেজার) পদে ছিলেন।

তিনি জানান, ২০২০ সালের ২৮ জুন তাকে চীফ পিপলস অফিসার (সিপিও) হেড অফ এইচআর কে বলে রিজাইন করতে। কিন্তু রিজাইনে রাজি না হওয়ায় তাকে সিপিও’র রুমে ডেকে নিয়ে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অফিসে তার সকল এ্যাকসেস বন্ধ, ল্যাপটপসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু কেড়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, তারা খুবই অমানবিক আচরণ করে আমাকে বের করে দিয়েছে। যে কোম্পানিতে আমি ১২ বছর চাকুরি করলাম মাত্র দুই ঘণ্টার নোটিশে যে অপমানজনক ভাষায় আমার সাথে তারা কথা বলেছে তা খুবই দু:খজনক।

রেজিনা সুলতানা বলেন, আমি কোম্পানিতে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তারা আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর আমি চেয়ারম্যান ও এমডিকে লিখিতভাবে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছি কিন্তু তারাও কোন ব্যবস্থা নেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানির সিইও ইকবাল হোসেন যাকে ইচ্ছে খুশি তাকেই বাদ দিয়েছেন বা দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরের জুনের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ জনকে বিভিন্নভাবে তিনি চাকুরীচ্যুত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন বলেন, সিইওর কিছু অনৈতিক কারবারে সহযোগীতা না করার কারণে তিনি এসব করছেন। যাকে খুশি বাদ দিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কর্মরত কয়েকজন বলেন, বর্তমানে আবারো তিনি চাকুরীচ্যুত করার পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে অফিসে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।

তারা বলছেন, করোনাকালীন সময়ে যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী বেসরকারী কোম্পানিতে কর্মরতদের ছাঁটাই না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে সিইও ইকবাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও মানছেন না। বেছে বেছে কোম্পানির প্রবীণ ও কর্মঠ কর্মীদের ছাঁটাই করে চলেছেন।

তারা বলছেন, সিইও ইকবাল কোম্পানি থেকে ১৫ লাখ টাকা বেতন পান। কিন্তু রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা দেখান। আর ১১ লাখ তিনি ক্যাশে নেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছেন। ঘটনার তদন্ত করলে এর প্রমানও পাওয়া যাবে বলে তারা জানান। এই বিষয়ে বাংলাট্র্যাকের সিইও ইকবাল হোসেন ট্যাক্সের বিষয়টা জানতে প্রতিবেদক যোগাযোগ করে কর অন্চল ১২ এ ২৫২ সার্কেলে। সেখানে খোজ নিয়ে দেখা যায় বাংলাট্র্যাকের সিইওর বর্তমান ঠিকানা দেয়া রয়েছে ৭১৪-২৪৬৬ ইংগলিংগটোন এভিন্যূ ইষ্ট টরোন্টো এম১কে৫জেবি ঠিকানা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলাট্র্যাকের এক সূত্র জানায় অপরিশোধীত টাকা ইকবাল হোসেন কানাডায় পাচার করছে এবং তাকে সহযোগীতা করছে বাংলাট্র্যাকের প্রধান হিসাব রক্ষক কাফী। প্রধান হিসাব রক্ষক আব্দুল্লাহীল কাফী সিইও ইকবালের সাথে যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ফাকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

তাছাড়া গত কয়েক বছর আগে ইকবাল হোসেন কানাডায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় দূর্ণীতির অভিযোগে সেখান থেকে ইকবাল হোসেনকে চাকুরীচূত্য করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে সরকারকে কি করে ভ্যাট ট্যাক্স ফাকি দিতে হয় সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাট্র্যাকের মালিকদের যুক্ত করে ক্ষমতাবান হয়েছে।

এইসব বিষয়ে জানতে বাংলাট্র্যাকের সিইও ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে জানাযায় বর্তমানে বাংলাট্র্যাকের সিইও পরিবারসহ কানাডায় অবস্থান করছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা কাফীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কথা বলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদক বার বার যোগাযোগ করলে মুঠো ফোনে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

বাংলাট্র্যাকের সাবে কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান সরকারে ভ্যাট ট্যাক্স ফাকিসহ কোটি কোটি টাকার দূনীতি করছে বাংলাট্র্যাকের এই দুই কর্মকর্তা। যাদের প্রছন্ন সহযোগীতা করে চলেছে সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাট্র্যাকের স্বত্বাধীকারীরা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের আয়কর এবং ভ্যাট কর্মকর্তারা জানান সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বাংলাট্র্যাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান সিইওর কানাডায় কত সম্পদ রয়েছে সেই বিষয়ে খোজ নিতে কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরকে চিঠির মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *