ধর্মীয় নেতাদের মুক্তি দিন: ফখরুল

ধর্মীয় সংগঠনের নেতা হিসেবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মুক্তি চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। পাশাপাশি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আলেমদের গ্রেপ্তার দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

ফখরুল বলেন, “লকডাউনের সুযোগ নিয়ে একটা ক্র্যাকডাউন করা হয়েছে। একদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের ধর্মীয় নেতা যারা আছেন, যারা আলেম-উলামা আছেন, তাদেরকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

“আমি আহ্বান জানাব যে, অবিলম্বে এই সমস্ত মামলা-মোকাদ্দমা তুলে ফেলা হোক, ধর্মীয় যারা নেতা আছেন, আলেম-উলামা আছেন তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করা হোক এবং বিএনপির যেসব নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।”

সরকারকে হুঁশিয়ার করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ধর্মীয় নেতাদেরকে এভাবে অপমান করা, তাদেরকে এভাবে হয়রানি করা এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্তু কোনোভাবে মেনে নেবে না।”

হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং হরতালে সহিংসতার পর সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংগঠনটির বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে ফখরুল বলেন, “হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে আমরা বরাবরই বলেছি যে, তাদের সাথে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। এটা কোনো রাজনৈতিক দলও নয়, সম্পূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় সংগঠন।”

সংঘাতের জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, “২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো সংগঠিত হয়েছে এটা তো সরকারের তৈরি করা। ২৬ মার্চ কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন, একই সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে উপলক্ষ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছিল।

“আমরা দেখেছি যে, বায়তুল মোকাররমে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি হচ্ছিল, তা শান্তিপূর্ণ ছিল। এটাকে সহিংস করে দেওয়ার পেছনে পুলিশের সবচেয়ে বড় ভূমিকা এবং তার পরে আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাসীরা “

এরসঙ্গে বিএনপিকে দায়ী করার প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে, ওইসব ঘটনাগুলোর সাথে বিএনপি কখনও জড়িত ছিল না। আমরা প্রতিবাদ করেছি বিক্ষোভ করেছি অবশ্যই। সেটা হচ্ছে যে, মানুষকে যখন বিনা কারণে হত্যা করা হল।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “তারা এখন সম্পূর্ণ একটা গণবিচ্ছিন্ন দলের পরিণত হয়েছে, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই তাদের এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর ভর করে রাজনীতি করতে হচ্ছে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে বিচার বিভাগ দলীয়করণ করে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করে।

“সেই ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদের সাহেবকে আমি করি তাদের সেই কোনো অধিকারই নেই যে, তারা এখনও বলবেন যে, আমরা গণতান্ত্রিক দল। উনি যে কথাগুলো বলছেন, এটা ভুতের মুখে রাম নামের মতো।”

গত ১৭ এপ্রিল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান বিএনপি মহাসচিব।

এই বৈঠকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি, লকডাউনে মানুষের সঙ্কট, টিকা পাওয়ায় অনিশ্চয়তা, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *