ভ্যাকসিন রপ্তানিতে কোনো বাধা নেই, কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে

ভারতীয় টিকা প্রাপ্তি নিয়ে বিতর্ক যেনো থামছেই না। দিল্লির ডেটলাইনে বিভিন্নমুখী সংবাদ আসছে। বিবিসির সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় ভ্যাকসিন বিশ্বময় রপ্তানিতে কোনো বাধা তো নয়ই বরং এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রপ্তানি করা যাবে। হিন্দুস্তান টাইমস এর রিপোর্টেও রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

রিপোর্ট মতে, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী আদর পূনাওয়ালা সর্বশেষ যে বক্তব্য দিয়েছেন টুইট বার্তায় সেখানে তিনি তার আগের বক্তব্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের চেষ্টা করেছেন। সিইও বলেন, ভারত থেকে সব দেশেই টিকা রপ্তানির অনুমোদন রয়েছে।

টুইট বার্তায় তিনি বলেন, যেহেতু সাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তাই বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আমি খোলাসা করেই বলছি, বিশ্বের যে কোনো দেশেই আমাদের টিকা রপ্তানির অনুমোদন রয়েছে।
তার ভাষ্য মতে, বাংলাদেশেরও টিকা পেতে কোনো বাধা নেই। উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা মিলে করোনা ভাইরাসের যে টিকা তৈরি করেছে, তার উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গ যুক্ত রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। দু’দিন আগে বেশ কয়েক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে যে, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রথম কয়েক মাস বিদেশে রপ্তানি করবে না ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরাম ইন্সটিটিউট।

সিরাম ইন্সটিটিউটের প্রধানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, কয়েক মাসের জন্য টিকা রপ্তানির অনুমতি দেবে না ভারত সরকার। দেশটির জনগণ যাতে যথাযথভাবে টিকা পায় সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সোমবার প্রচারিত প্রায় অভিন্ন এবং একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার সিরামের সিইও’র ঠিক উল্টো বক্তব্য পেয়েছে সংবাদ মাধ্যম।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিরামের টিকা পাবে বাংলাদেশ:
এদিকে বিবিসি বাংলার সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বলেছে, যে দুটি কোভিড ভ্যাকসিনকে তারা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে, সেই দুটি রপ্তানিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ভারতের স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষন এটি জানিয়েছেন বলে কলকাতা থেকে খবর দিয়েছেন বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী। বিবিসি বাংলার রিপোর্ট মতে, সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী অফিসার আদার পুনাওয়ালার যে বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল, তিনিও জানিয়েছেন যে ভারতে বা বিদেশে বেসরকারি কোন সংস্থার কাছে টিকা বিক্রি না করতে পারলেও যে কোনও দেশের সরকার পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি রপ্তানির ওপরে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সেই হিসাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের কাছে টিকা রপ্তানি করতে কোনরকম বাধা থাকছে না, কারণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, ভারত থেকে কোভিড টিকা আনার ব্যবস্থাটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো করলেও টিকাদান কর্মসূচির অর্থায়ন ও পরিচালনা সরকারই করবে।

সিরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও মরক্কোয় তারা টিকা পাঠানোর কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করতে পারবে বলে আশা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 8 =

Translate »