মাশরাফির ‘বিদায়’

টেস্টকে বিদায় বলার সুযোগ হয়নি। তবে ২০০৯ থেকে এই ফরম্যাটে খেলার সুযোগ পাননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। গেল বছর ওয়ানডের নেতৃত্ব ছেড়েছেন। তবে অবসরে যাননি। আশায় ছিলেন সুযোগ হলে খেলবেন। কিন্তু এই ফরম্যাটে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আছে সন্দেহ। এই মাসে টাইগাররা করোনা বিরতি ভেঙে মাঠে ফিরছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০শে জানুয়ারি ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। দল ঘোষণার আগ পর্যন্ত গুঞ্জন ছিল মাশরাফির থাকা না থাকা নিয়ে! কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গতকাল দল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বার্তাও দিয়েছে দেশের সাবেক সফল অধিনায়ককে যে তাদের ভাবনা থেকে ‘বিদায়’ দেয়া হয়েছে তাকে।

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ২৪ সদস্যের প্রাথমিক ওয়ানডে দল ঘোষণা করলেও সেখানে জায়গা পায়নি মাশরাফি। ২০২৩ বিশ্বকাপ ভাবনা থেকে ৩৭ বছর বয়সী এই পেসারের তুলনায় তরুণদের এগিয়ে নিতেই বিসিবির আগ্রহ বেশি। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের রেস্পেক্ট ওর (মাশরাফি) প্রতি আছে। ও দেশের জন্য অনেক কিছু দিয়েছে। এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তাহলেও বাস্তবতা আমাদের মানতেই হবে। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাশরাফিকে বাদ দিতে হয়েছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি ওর জায়গায় যেই খেলবে তার জন্য অবশ্যই এটা অনেক বড় সুযোগ।’

হ্যাঁ, মাশরাফিকে দলে না নেয়ার অন্যতম কারণই হচ্ছে তরুণদের সুযোগ দেয়া। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত নেয়া বিসিবির জন্য ছিল ভীষণ কঠিন। দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনরা আগেই তাদের মতামত জানিয়েছিলেন যে, মাশরাফিকে নিয়ে তারা পরিকল্পনা করছেন না। তাদের চোখ তরুণদের দিকে। তবে শোনা যাচ্ছিল অধিনায়ক তামিম ইকবাল দেশের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে পাশে চাইছিলেন। তবে গতকাল প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন ু কোচ, অধিনায়ক, টিম ম্যানেজম্যান্ট সকলে মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাশরাফিকে দলে না রাখার। মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘এখানে সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কোনকিছুই গ্যাপ রাখা হয়নি। টিম ম্যানেজমেন্টের প্ল্যান, ওর ফিটনেস ট্রেইনার, বোলিং কোচ সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট সব ডিপার্টমেন্টের সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

মাশরাফিকে দলের ভাবনায় না রাখার কারণটাও অকপটে স্পষ্ট করেছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক ইস্যুই এসেছে। সব মিলিয়ে টিম ম্যানেজম্যান্ট আমাদের অনেক কিছুর প্ল্যান দিয়েছে এবং আমরাও এ নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। যেটা বললাম যে সিদ্ধান্তটা অনেক আলোচনার পরেই এসেছে। আমরা আমাদের দেশের ক্রিকেটের কথা, আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তরুণ ক্রিকেটারদের তো আমাদের জায়গা দিতে হবে। ১০ মাস পর সবাই কিন্তু নতুন করে শুরু করছে। আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি এই মহামারিতে।’

বারবারই ঘুরে ফিরে এসেছে ২০২৩ বিশ্বকাপ পরিকল্পনার কারণেই মাশরাফিকে নিয়ে ভাবতে চাচ্ছে না বিসিবি। এই বিষয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘অবশ্যই ২০২৩ এর জন্য একটা ফোকাস আমরা রেখেছি। ২০২১ থেকেই কিন্তু প্রচুর ম্যাচ আছে আমাদের। টেস্ট ক্রিকেট বলেন, ওয়ানডে বলেন সবকিছু মিলিয়ে দলটা একটু বড় করা হয়েছে। এই ফোকাসটা রেখেই কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা অনুসারে আমরা এগোচ্ছি।’ অবশ্য মাশরাফিকে বাদ দিয়ে দল গঠনের আগে তার সঙ্গে আলোচনার দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলেছি তার সঙ্গে। ওর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমার যতটুকু মনে আছে ওকে আমি বলে দিয়েছি। ওর সঙ্গে আমার কী আলোচনা হয়েছে আপনাদের সঙ্গে তো বলতে পারবো না। আমার সঙ্গে ভালোই কথা হয়েছে। মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের কিছু নাই।’

ওয়ানডে স্কোয়াড
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সৌম্য সরকার, ইয়াসির আলি রাব্বি, তাসকিন আহমেদ, নাঈম শেখ, আল আমিন হোসেন, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মো: সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, রুবেল হোসেন।

টেস্ট স্কোয়াড
মুমিনুল হক সৌরভ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, ইয়াসির আলী রাব্বি, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, আবু জায়েদ রাহী, তাসকিন আহমেদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, কাজী নুরুল হাসান সোহান, সাদমান ইসলাম, নাঈম হাসান এবং ইবাদত হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × one =

Translate »