সংবিধান লঙ্ঘন করেন ইয়াহিয়া,গণমানুষের নেতা ছিলেন শেখ মুজিব

পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মুবারক আলী বলেছেন, স্বাধীনতা অর্জনের আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিটির রয়েছে বিপুল পরিমাণ গণমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। অন্যদিকে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা ছিলেন সামন্ত রাজাদের মতো। তখন জাতীয় স্বার্থ এমন একটি বিষয় ছিল যে, কেউ তা যেমনভাবে ব্যবহার করতে চাইতেন তেমনভাবেই ব্যবহার করতেন। পাকিস্তানের এই ইতিহাসবিদ আরো বলেন, প্রকৃত সত্য থেকে পাকিস্তান দূরে সরে গেছে। তিনি যুক্তি দেখান, যখন জেনারেল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে তখন সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল তার। কিন্তু তিনি তা না করে ক্ষমতা তুলে দেন সেনাবাহিনীর হাতে। এর মধ্য দিয়ে তিনি আইনের বিরুদ্ধে গিয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ আর সিদ্দিকীর লেখা বই ‘জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান: দ্য রাইজ এন্ড ফল অব এ সোলজার’-এর অনলাইন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার রাতে এসব কথা বলেছেন ড. মুবারক আলী। এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল তারিক ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট। এ নিয়ে এরই মধ্যে পাকিস্তানের অনলাইন দ্য নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তা মানবজমিন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অনলাইন ডন ওই প্রকাশনা অনুষ্ঠান থেকে আরো কিছু তথ্য তুলে ধরেছে, যা দ্য নিউজের প্রতিবেদনে ছিল না। এতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের অনেক বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের উল্লেখ করেন ইতিহাসবিদ ড. মুবারক আলী। তিনি বলেন, সম্প্রতি ১৬ই ডিসেম্বর এসেছিল এবং তা চলে গেছে। কিন্তু এ নিয়ে পাকিস্তানে কোনো আলোচনা শোনা যায়নি। তিনি বলেন, আমরা ‘বাংলাদেশের বিজয়’ শব্দগুলো ব্যবহার করি না। এর পরিবর্তে আমরা বলি ‘ঢাকার পতন’। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এটা মেনে নেয়ার সময় এসেছে আমাদের কাছে।
অনুষ্ঠানের আলোচক তাসনীম সিদ্দিকী বলেছেন, ১৯৭১ সালের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। যখনই এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তখনই জেনারেল ইয়াহিয়ার বর্ণিল জীবনধারা এবং কত বাঙালি বা বিহারিকে হত্যা করা হয়েছিল তা উত্থাপিত হয়। প্রকৃত সত্য হলো ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পিছনে বাঙালিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেনি। বাংলা ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয় নি। এ জন্যই ১৯৫২ সালে প্রথম দাঙ্গা শুরু হয়। বাঙালিরা পাকিস্তানকে ভালবাসতেন। ১৯৭১ সালের পরে বাঙালিরা তাদের দেশ বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করেছেন। তাদের এ কাজ প্রশংসনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 1 =

Translate »