‘বরাদ্দকৃত বাসায় না থাকলে ভাতা বন্ধ’

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি করা বাসা বরাদ্দ নিয়ে যদি কোনো কর্মকর্তা সেখানে না থাকেন তবে তারা বাসাভাড়া ও ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনাসচিব আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পরিকল্পনাসচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বাসা রয়েছে। শিক্ষক, চিকিৎসকসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাসা বানানো হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা সেসব বাসায় থাকেন না। সরকারি বেতন বৃদ্ধির ফলে এখন যে বাসা ভাড়া পাওয়া যায়, সেটার চেয়ে কম টাকায় বাইরে বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। ফলে তারা বাইরে থাকেন। এ জন্য সরকারি টাকায় তৈরি বাসাগুলো অব্যবহৃত থাকে।

নষ্ট হয়ে যায়। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় এ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যাদের নামে বাসা বরাদ্দ হবে, বিশেষ করে নির্ধারিত বাসাগুলোতে তাদের থাকতেই হবে। যদি না থাকেন, তাহলে বাড়িভাড়া বাবদ যে ভাতা পান, তা পাবেন না। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিকল্পনাসচিব জানান, একনেকে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দিবে এক হাজার ২৪৫ কোটি ৩০ লাখ, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০ কোটি ৯৮ লাখ ও বিদেশি ঋণ দুই হাজার ৪২ কোটি আট লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘নরসিংদী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প; ‘খুলনা শহরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প ও ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রিপেইড গ্যাসমিটার স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প।

একনেক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক; তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন; ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − twelve =

Translate »