মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে:ফখরুল

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীনদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘এবসেন্স অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন্স বাই স্টেট এপারেটাস’ শীর্ষক গ্রন্থের উদ্বোধন উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বিএনপির মানবাধিকার টিমের সম্পাদনায় এই ১১৬ পৃষ্ঠার মধ্যে ২০০৯ সা্ল থেকে ২০২০ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনা ও তথ্য প্রমাণাদি তুলে ধরা হয়েছে। এই গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিক মোড়ক ‍উন্মোচন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ফখরুল বলেন, আমাদের নেত্রী যিনি দীর্ঘ ৯ বছর সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রের জন্যে, তাকে সম্পূর্ণ বিনাদোষে মিথ্যা মামলা দিয়ে আজকে আটক করে রাখা হয়েছে দীর্ঘ দুই বছর ধরে। আজকে ৩৫ লক্ষের ওপরে মানুষকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, এক লাখের বেশি আসামি। প্রায় ৯০০ মানুষ গুম হয়ে গেছে, হত্যা হয়েছে হাজার হাজার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন আজকে আওয়ামী লীগের একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এজন্যই তাদেরকে অবশ্যই একদিন না একদিন অতি নিকটে তাদেরকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দিনটি যখন আমরা পালন করছি-আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। আমরা দেশের অবস্থা সম্পর্কে, বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে আরো ভালো করে জানি-কিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সবাই একজোট হই আমার অধিকারকে ফিরি্য়ে নিয়ে আসার জন্য আমাদেরকেই আজকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

গুম হওয়া পরিবারের আহাজারির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি অনেকের বাসায় আমি গিয়েছি। তাদের মা-বোন-ভাই তাদের এখনো যে আহজারি- এটা কখনোই মেনে নেওয়ার মতো নয়। কিছুক্ষন আগে আমাকে ফোন করেছিলেন আমাদের আরেকজন মুন্না, আমার পাশেই থাকে দক্ষিনখানে। তার মা কিছুক্ষন আগে ফোন করে বলছিলেন যে, বাবা আমার ছেলেটা হারিয়ে যাওয়ার ৮ বছর হলো। তাকে খুঁজতে গিয়ে বাবাও হারিয়ে গেলো। এই যে ডিজ এ্যাপিয়ারেন্স।’

ফখরুল বলেন, ‘তাদের অপরাধ- তাদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তা ছিলো, সরকারের মত থেকে ভিন্নমত পোষণ করতো। এই কারণে তাদেরকে হারিয়ে যেতে হয়েছে, খুন হতে হয়েছে। আজকে ইলিয়াস আলীর বাসায় যখন আমি যাই গুম হওয়ার দিনটিতে। আমার তখন মনে আছে তার ছোট্ট মেয়েটি যার বয়স ৬ বছর ছিলো এখন তার বয়স প্রায় ১৩/১৪ বছর। তার চোখের দিকে আমি তাঁকাতে পারি না-এটা হলো বাস্তবতা।

নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যখন আমরা দেখি আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধানে যেটা আছে- যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা পার্লামেন্ট গঠন করব, প্রতিনিধি নির্বাচন করব, পার্লামেন্ট গঠন করে দেশ পরিচালনা করবো সেই নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট নিয়ে চলে যায়।’

পৌরসভা নির্বাচনের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, আজকেও (বৃহস্পতিবার) একটি নির্বাচন হচ্ছে-পৌর নির্বাচন। ২২টি পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে যা খবর পেয়েছি যে প্রায় প্রত্যেকটি পৌর সভা নির্বাচনে সরকারি দলের লোকেরা দখল করে নিয়েছে পুলিশের সাহায্যে, রাষ্ট্রের সাহায্যে-এই হচ্ছে যেটা বাংলাদে্শের বর্তমান অবস্থা।’

সম্প্রতি ভাস‌র্য ভাঙার অভিযোগ একটি মামলা দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার চেয়ারম্যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং আমার বিরুদ্ধে আরো একটি নতুন মামলা আওয়ামী লীগের একটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট তিনি করেছেন- যে আমরা উস্কানি দিয়েছে এই সমস্ত অপকর্ম যেটা আওয়ামী লীগ করছে সেই অপকর্মগুলোতে। এভাবেই বাংলাদেশ চলছে।’

এই ভার্চুয়াল আলোচনায় ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, তুরস্ক, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান, ওমান, প্যালেষ্টাইনের কুটনীতিকগন এবং জাতিসংঘ, আইআরআই, আইসিআরসি প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ভার্চুয়াল আলোচনা ঢাকার বি্ভিন্নদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কুটনীতিকরা অংশ নেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গুম হওয়া সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলীর ছেলে আবরার ইলিয়াস ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি ও পু্লিশী নির্যাতনে গুরুতর আহত ছাত্রদলের জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *