শীতে মাথা ধরা, কী করবেন

শীতে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায়। এ সময় ঠাণ্ডার কারণে মাথাধরা, মাথাব্যথা, সর্দির মতো সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। এ ছাড়া নাক বন্ধ ও জ্বরও হতে পারে।

শীতের এ সময়টা সাইনোসাইটিসের রোগীদের জন্য কষ্টকর। এই সময়ে তাদের মাথাব্যথা, নাক বন্ধ, জ্বর জ্বর ভাব বেড়ে যায়। আর মাথাব্যথাটা মূলত সাইনোসাইটিসের কারণে হয়ে থাকে।

মাথাব্যথার ৩০০-এর বেশি কারণ থাকলেও সাধারণ কারণগুলোকে প্রধানত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়-

১. মস্তিষ্কের স্নায়ু ও শিরাসংক্রান্ত (নিউরোভাসকুলার) মাথাব্যথা : এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেটি দেখা যায় তা হলো মাইগ্রেন ও দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা।

২. চোখসংক্রান্ত মাথাব্যথা।

৩. সাইনাসজনিত মাথাব্যথা।

যে কোনো ক্রনিক বা দীর্ঘদিনের সমস্যা- দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে। ক্রনিক মাথাব্যথার সঙ্গে সাইনাস ও নাকের লক্ষণ যেমন- নাক বন্ধ, সর্দি, জ্বর জ্বর ভাব জড়িত, সেসব মাথাব্যথা মূলত সাইনাসজনিত কারণেই হয়ে থাকে।

সাইনাস কি?

নাক ও চোখের চারপাশে হাড়ের ভেতরে কিছু বায়ুকোষ বা কুঠুরিকে সাইনাস বলা হয়। সাইনাস হলো মাথার খুলির হাড়ের মধ্যে অবস্থিত কিছু ফাঁকা জায়গা। চোখের পেছনে, নাকের হাড়ের দুই পাশে এ রকম ফাঁকা জায়গা আছে। এই ফাঁকা জায়গায় সর্দি জমে সাইনোসাইটিস বা প্রদাহ হয়।

এতে বাতাস আটকে যায় এবং মাথাব্যথা করে। এই মাথাব্যথা সাধারণত কপালে বা গালের দুদিকে কিংবা চোখের পেছনে অনুভূত হয়।

সকালের দিকেই শুরু হয় এবং একটু নিচু হলে ব্যথা বাড়ে। ওপরের পাটির দাঁতেও ব্যথা হতে পারে। সঙ্গে জ্বর বা শীত অনুভূত হতে পারে।

এ সময়ে মাথাব্যথা সাইনোসাইটিসের কারণে হয়ে থাকে। মাথাব্যথা দীর্ঘদিন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই সময়ে বন্ধ নাক, সর্দি, জ্বর ও মাথাব্যথা হলে সাইনোসাইটিসে ভুগছেন কিনা লক্ষ্য করুন।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন-

১. নাকে স্যালাইন স্প্রে বা ড্রপ দিলে জমে থাকা মিউকাস বা আঠালো পদার্থ নরম হয়ে আসবে এবং সাইনাসের ফোলা বা ব্লক কিছুটা হলেও দূর হবে।

২. রাতে ঘুমানোর আগে খানিকটা বাষ্প নিলে রাতে আরাম পাবেন। এ ছাড়া গামলায় গরম পানি নিয়ে বাষ্প নাক দিয়ে টেনে নিন।

৩. গরম পানি দিয়ে গোসল করুন ও কুসুম গরম পানি পান করুন।

৪. মাথাব্যথা বেশি হলে এক টুকরো কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে কপাল, চোখের ওপর বা নাকের দুপাশে সেঁক দিন। এতে আরাম পাবেন।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। তবে মাথাব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

৬. শীতের এই আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় শরীরে। শরীরে ব্যথা ও মাথাটা একটু ভার ভার লাগবে। এই সমস্যায় লাল চা পান করুন। সঙ্গে একটু মধু, লেবুর রস এবং আদা ছেঁচে বা কুচি করে দিতে পারেন।

৭. মাথা ভার হওয়া কমানোর জন্য আপনার দরকার পর্যাপ্ত বিশ্রাম।

ডা. আরেফিন খান, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =

Translate »