উপজেলা চেয়ারম্যানের দেহরক্ষীকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ধীমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (৬ ডিসেম্বর) ভোররাতে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধীমান চাকমা ছুটিতে বাঘাইছড়ির নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধীমান চাকমা নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমার দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বাড়িতে আসেন। রাতে তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অস্ত্রশস্ত্রসহ একদল সন্ত্রাসী বাড়ি এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

বছরখানেক আগে তিনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) থেকে পদত্যাগ করে জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) দলে যোগদান করেন। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহত ব্যক্তি জেএসএস (এম এন লারমা) দলের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা অভিযোগ করে বলেন, ভোররাতে রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জ্যাছড়ি নামক এলাকায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের একদল সন্ত্রাসী ধীমান চাকমাকে তার বাসা থেকে ডেকে বাইরে আনে। এরপর তার ওপর গুলি করে পালিয়ে যায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঘটনায় সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য ত্রিদীপ চাকমা বলেন, আমাদের দলের কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নেই। এটি তাদের নিজেদের দলীয় কোন্দলের কারণেও ঘটতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *