শ্রাবন্তীকে ‘ঘৃণা করেন’ স্বামী রোশন

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় সংসারও ভাঙতে বসেছে। এই সত্যিটা যেন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রথম স্বামী পরিচালক রাজিব বিশ্বাস এবং দ্বিতীয় স্বামী কৃষেণ ব্রজের সঙ্গে ডিভোর্সের আগে কোনো সাড়াশব্দ ছিল না নায়িকার। তবে তৃতীয় স্বামী রোশন সিংয়ের সঙ্গে সংসার ভাঙার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন তিনি।

শ্রাবন্তীকে মোটেই ছেড়ে কথা বলছেন না তার তৃতীয় স্বামী রোশন। স্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ তিনি নজরে রাখছেন এবং সুযোগ মতো শ্রাবন্তীকে বিঁধছেনও। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও শ্রাবন্তীর প্রতি তার ঘৃণার কথা পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিলেন রোশন।

অতি সম্প্রতি অভিনেত্রী শ্রাবন্তী নিজের মা-বাবার সঙ্গে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। ক্যাপশনে লেখেন, তাকে সবসময় সব অবস্থায় সমর্থন জানিয়ে এসেছেন তার মা-বাবা। ছবিতে দেখা যায়, শ্রাবন্তীর সিঁথিতে জ্বলজ্বল করছে সিঁদুর। এই ছবি ও ক্যাপশন দেখে অনুরাগীরা মেতেছেন নতুন জল্পনায় আর রোশন হয়েছেন বিরক্ত।

শ্রাবন্তীর এই পোস্টের পরই আত্মজা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উক্তি ধার করে পাল্টা পোস্ট দিয়েছেন রোশন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি পারস্পরিক বিশ্বাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। বিয়ের গুরুত্ব বোঝাতে সিঁদুর ভীষণ দুর্বল চিহ্ন।’ আরও লিখেছেন, ‘বর্তমান বা সাবেক স্বামীর আপত্তি সত্ত্বেও কিছু নারী তার নামে জোর করে সিঁদুর পরেন। এই ধরনের নারীকে ভীষণ ঘৃণা করি।’

শ্রাবন্তীর সিঁথির সিঁদুর কি তাহলে অশান্তি চাপা দিতে? রোশনের কথায় তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর দুইজনের এই পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেখে নেটিজেনদের মন্তব্য, শ্রাবন্তীর তৃতীয় সংসার ভাঙা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শুধু প্রয়োজন একটু আনুষ্ঠানিকতার।

চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজিব বিশ্বাসের সঙ্গে শ্রাবন্তীর প্রথম বিয়েটা হয়েছিল ২০০৩ সালে । সেই সংসারে তার ঝিনুক নামে এক ছেলে রয়েছে। কিন্তু রাজের সঙ্গে থাকতে পারেননি শ্রাবন্তী। আট বছর সংসার করার পর ২০১১ সালে তাদের ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের কারণ হিসেবে সে সময় রাজের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনেছিলেন নায়িকা।।

এরপর ২০১৫ সালে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মডেল কৃষেণ ব্রজের সঙ্গে সম্পর্ক হয় শ্রাবন্তীর। দুই বছর প্রেম করার পর ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তারা বিয়ে করেন। নায়িকার সেই সংসার টিকেছিল মাত্র তিন মাস। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর শ্রাবন্তী-কৃষেণের পাকাপাকি ডিভোর্স হয় গত বছরের ১৫ জানুয়ারিতে।

সেই ডিভোর্সের মাস না গড়াতেই ভগ্নিপতির মাধ্যমে রোশনের সঙ্গে পরিচয় হয় শ্রাবন্তীর। কিছুদিন হাই হ্যালোর পর একসঙ্গে তারা নৈশভোজে যেতে শুরু করেন। রোশনের বাড়িতেও শ্রাবন্তীর যাতায়াত বাড়ে। ছড়িয়ে পড়ে তাদের বিয়ের গুঞ্জন। সেই গুঞ্জনকে সত্যি করে গত বছরের ১৯ এপ্রিল বিয়ে করেন রোশন-শ্রাবন্তী। তবে বর্তমানে তারা আলাদা থাকছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *