ক্যালিফোর্নিয়ায় নৈশকালীন কারফিউ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে করোনা ভাইরাসের কারণে নৈশকালীন কারফিউ দেয়া হয়েছে। এই কারফিউ শুরু হচ্ছে শনিবার থেকে। কারফিউ ঘোষণা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম। বহাল থাকবে ২১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর মেয়াদ বাড়াতে পারে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যে করোনা সংক্রমণ পিক-এ বা সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানকার অবস্থা তার চেয়ে ভয়াবহ। এর প্রেক্ষিতে নতুন করে নৈশকালীন কারফিউ দেয়া হয়েছে।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, মে মাসের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির সংকলিত ডাটা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছেন কমপক্ষে দুই লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। বিশ্বে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সর্বোচ্চ প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার মানুষ করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে শুক্রবার। বলা হয়েছে, এটাই যুক্তরাষ্ট্রে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

অনেক রাজ্য এখন নতুন করে মুখে মাস্ক পরা মাধ্যতামূলক করেছে। তারা একই সঙ্গে নানা রকম বিধিনিষেধ আরোপ করছে। মর্গে অপারেশনে সহায়তা করার জন্য টেক্সাসের এল পাসো শহরে মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড। আগামী ২৬ শে নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংসগিভিং হলিডে বা ছুটির দিন। এদিন করোনা সংক্রমণ রোধের জন্য দেশবাসীকে সফর এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানিয়েছে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। উল্লেখ্য, থ্যাংকগিভিং যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক সময় যখন বেশির ভাগ মানুষ এখান থেকে ওখানে সফর করে তার প্রিয়জনকে ধন্যবাদ জানান। গত বছর এই দিনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সফর করেছেন। ব্যস্ত রেখেছেন বিমানবন্দরগুলোকে।

শুক্রবার নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, দৃশ্যত আমার করোনা হয়েছে। তিনি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। ওদিকে গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়াতে মোট দশ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে টেক্সাসের পরেই সংক্রমণের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে এই রাজ্য। ঘরে থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে জনগণের প্রতি। এ রাজ্যের ৫৮টি কাউন্টির মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৪১টি। সেখানে বসবাস করেন রাজ্যের শতকরা ৯৪ ভাগেরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এই ক্যালিফোর্নিয়া। এখানে বসবাস করেন প্রায় ৪ কোটি মানুষ। কিছু কিছু কাউন্টিতে সতর্কতা দিয়ে বলা হয়েছে, আরো কঠোর নির্দেশনা আসতে পারে সামনের দিনগুলোতে।

ওদিকে নিউ ইয়র্ক সিটিতেও নৈশকালীন কারফিউ চলছে। বার, রেস্তোরাঁ এবং জিম বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে কারফিউ বহাল থাকবে। সেখানে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − seven =

Translate »