১৪ মাসেও উন্মোচন হয়নি শিশু সজিবের গলাকাটা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেতু তৈরীতে মাথা লাগবে এমন গুজবে যখন উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঠিক তখন  ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নেত্রকোণা জেলা শহরের  নিউটাউনে ব্যাগে শিশুর কাটা মাথা  দেখে  পিটিয়ে হত্যা করা হয় রবিন মিয়া নামে এক রিকশা চালককে।
এঘটনায়  দীর্ঘ ১৪ মাস তদন্ত শেষে   সি আই ডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।   তদন্তে গণপিটুনির কোন সাক্ষী পায়নি তারা। ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও থেকেও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
 আদালতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সি আই ডি জানিয়েছে, দল বেঁধে পিটিয়ে হত্যা হলেও  সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় আসামি করা যায়নি কাউকে।
সেদিন জেলা সদরের কাটলী এলাকার রিক্সাচালক রইছ মিয়ার ছেলে শিশু সজিবের খণ্ডিত মস্তক ব্যাগে বহন করছিলো রবিন মিয়া। ব্যাগ চুইয়ে রক্ত পড়তে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। একপর্যায়ে তার ব্যাগ পরীক্ষা  করে শিশুর খন্ডিত মস্তক দেখে আতংকিত জনগণ গণপিটুনি দেয় রবিনকে। যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গণপিটুনির ভিডিও ফুটেজ তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
তৎকালীন সময়ে এঘটনায়  নেত্রকোণা মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। সি আই ডি তাদের তদন্তে   দাবি করেছে, শিশুটির হত্যাকারী গণপিটুনিতে নিহত রবিন। তবে এই যুবককে কারা হত্যা করেছে, তা বের করতে ব্যর্থ সি আই ডি।
উল্লেখ্য,  ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই  নেত্রকোনা জেলা শহরের নিউটাউন পদ্মপুকুর পাড় এলাকায় শিশুর গলাকাটা মাথা ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক রবিন নামে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিল।
শিশুর কাটা মাথা ও যুবকের লাশ নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করেছিল।
কাটা মাথা শিশুটির নাম সজিব মিয়া (৮)। সে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকার রিকশাচালক রইছ মিয়ার ছেলে। তারা ওই এলাকায় হিরা মিয়ার ভাড়া বাসায় থাকতো। গণপিটুনিতে নিহত যুবক রবিন মিয়া।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের নিউটাউন এলাকায় ব্যাগে করে কাটা মাথা নিয়ে যাচ্ছিল এক যুবক। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।
পরে ব্যাগ খুলে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন এক শিশুর মাথা পাওয়া যায়। এ সময় জনতার গণপিটুনিতে ওই যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় সারা শহরে আতংকের সৃষ্টি হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − sixteen =

Translate »