সাজাপ্রাপ্ত মতি মাতবরকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন হাইকোর্ট

মাদক মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শরীয়তপুরের মতি মাতবরকে কারাগারে না পাঠিয়ে বাড়িতে প্রবেশনে পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে দেড় বছর প্রবেশনে থাকাকালীন তাঁকে তিনটি শর্ত পালন করতে হবে।

আজ রোববার বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এক রিভিশন মামলায় এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. রুহুল আমীন ও অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এনামুল হক মোল্লা।

পরে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামি মতি মাতবরের পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা রিভিশন মামলার রায়ে আসামির সাজা বহাল রেখে প্রবেশন দিয়েছেন বিচারপতি জাফর আহমেদ। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রবেশন বিশেষ আইনে প্রথম রায়, যা অত্যন্ত আশাপ্রদ এবং যুগান্তকারী।

আসামিকে দেওয়া শর্তগুলো হলো :

১. ৭৫ বছরের মাকে সেবা ও দেখাশোনা করতে হবে।

২. দুই সন্তানের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মেয়েকে বাল্যবিবাহ দেওয়া যাবে না।

শর্তগুলো ভঙ্গ করলে আসামি মতি মাতবরকে আবারও কারাগারে যেতে হবে বলে আদেশ দেন আদালত। অন্যদিকে প্রবেশনের শর্ত সঠিকভাবে পালন করলে তাঁর পাঁচ বছরের সাজা বাতিল হয়ে যাবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মতি মাতবর ও অপর একজন আসামির কাছে ৪১১ পিস ও ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বরে ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলায় ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি ঢাকার যুগ্ম মহানগর হাকিম আসামিদের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা মহানগর দায়রা আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন। ২০১৭ সালের ১১ মে আপিল শুনানি নিয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

পরে আসামি মতি মাতবর একই বছরের ১ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন মামলা করেন। রিভিশন মামলার শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবেশনে পাঠালেন। এই মামলার অপর আসামি পলাতক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × five =

Translate »