নেত্রকোনায় বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়তি বেতন ভাতা আদায়ের অভিযোগ

আসাদ তালুকদারঃ  নেত্রকোণার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে করোণাকালীন সময়েও বাড়তি বেতন-ভাতা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি এসব বিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল বিতর্ক।
নেত্রকোণার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন কার্যক্রম না করেও  বেতন-ভাতা আদায়ের বিষয়টিকে অমানবিক বলে দাবি করছেন অভিভাবকরা,  এমনকি সব দেনা-পাওনা না পেলে ছাত্রদের ভবিষ্যত পাঠদান কর্মসূচিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলেও তারা আশংকা করছেন।
কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান কবীর সাজু বলছেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা আসার আগে থেকেই অনলাইনে আমাদের পাঠদান চালু রেখেছি।  ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা না করেই অটো প্রমোশন পাচ্ছে যেহেতু সেখানে বিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা পরিশোধে আপত্তিটা অযৌক্তিক। আমাদের স্টাফরা কি না খেয়ে থাকবে? তবে নিম্নবিত্তদের আমরা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করছি।
অন্যদিকে,  গত ১ নভেম্বর নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ  বিদ্যালয়ের   প্রধান শিক্ষিকা শিবানী সাহা স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। সেটি বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেইজে দেওয়ার পরপরই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে নেটিজেনরা। একপর্যায়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা বেতন আদায় প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। বেতন আদায় স্থগিত করে গত রাত ২টায় একটি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয় বিদ্যালয়টির ফেসবুক পেইজে।
 বিদ্যালয়টিতে     কম্পিউটার ও অত্যাবশ্যকীয় নামে দুটি ভাগে প্রতিমাসে ২০ টাকা করে ৪০ টাকা আদায় করা হয়। অন্যদিকে প্রত্যেক শ্রেণিতে ভর্তির শুরুতে বিবিধ/আনুষাঙ্গিক বাবদ ২০০ টাকা আদায় করা হয়। যা চলতি বছরেও আদায় করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের সর্বশেষ চিঠিতে বার্ষিক একবার অত্যাবশ্যকীয় নামে ৩০ টাকা আদায়ের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমাসে আদায় করে যাচ্ছে ২০ টাকা করে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী আট কর্মচারীর বেতন ভাতার পরিমাণের দিকে তাকালে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির খাতার অর্থনৈতিক হিসেবে প্রতিমাসে তাদের মোট বেতন দেয়া হয় ৩৭ হাজার ৫শত টাকা। বিপরীতে এই বরাতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রতি মাসে অর্থ আদায় করা হয় ৫৬ হাজার ৬শ টাকা। চলতি মাসে আদায় করা হলে বার্ষিক সেই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ২শ টাকা। মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট জারি করা বিধি অনুযায়ী অনুসরণ না করে প্রতিষ্ঠানটি ৩ বছর ধরে এই অতিরিক্ত ফি আদায় করে যাচ্ছে। যা টাকার অংকে প্রায় ২৯ লাখ।
১৪১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত হওয়া সরকারী বালিকা বিদ্যালয়টির ১৯টি খাতে বেসরকারীভাবে অর্থ আদায় করা হয়, যার একাধিক খাতে অর্থ ব্যবহারে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা শিবানী সাহা এটিএন লাইফস্টাইলকে  বলেন, আমরা যা করছি সরকারি নিয়ম মেনেই করছি।
আর এই টাকা কেবল আমরাই নিচ্ছি না প্রায় সব স্কুলই নিচ্ছে।
আপনারা যদি সঠিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে থাকেন তাহলে বেতন আদায়ের নোটিশ প্রকাশের পরপরই আবার স্থগিত করলেন কেন এটিএন লাইফস্টাইলের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমরা এখন স্থগিত করেছি,  পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে     সময়ানুযায়ী আদায় করা হবে।
অপরদিকে জেলার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় করোণাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখনও বেতন-ভাতা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে বলে নিশ্চিত করেছেন এটিএন লাইফস্টাইলকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন,  করোনার জন্যে সরকার যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখছে তখন বেতন প্রদানে শিক্ষার্থী অভিভাবকের আসাটাও অসংলগ্ন। সেইসাথে অতিরিক্ত ফি আদায়  বন্ধ করা হোক এমনটাই দাবি আমাদের।
বিদ্যালয়গুলোর এসব কার্যক্রম ও অভিভাবকদের আতংকের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভুমিকা কি এমন প্রশ্নের জবাবে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান এটিএন লাইফস্টাইলকে  বলেন, অনিয়ম হয়ে থাকলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে নোটিশের মাধ্যমে সকল বিদ্যালয়গুলোকে সঠিক নির্দেশনা দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − six =

Translate »