ট্রাম্প-বাইডেন: জয় দাবি দুজনেরই

মার্কিন নাগরিকেরা রায় দিয়ে দিয়েছেন। এখন নখ কামড়ানো সময় পার করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। ভোট গণনা চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে। তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে কয়েকটি ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যের ওপরে। কিন্তু ব্যাপক মেইল ভোটের কারণে চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে। তাতে নির্বাচনে জেতার আশা ছাড়ছে না কোনো পক্ষ।

জো বাইডেন বলছেন, তিনিই জিততে চলেছেন। ট্রাম্প বলছেন, তিনি বড় জয়ের আশা করছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, মিশিগানের মতো রাজ্যগুলোর ফলাফলের ওপর ঝুলছে ট্রাম্প–বাইডেনের হোয়াইট হাউসের চাবি।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মার্কিন মহারণে বুধবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হতে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু তাঁর এ দাবির পরই তোপ দেগেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষরা ফল চুরি করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

নিজ শহর উইলমিংটনে সমর্থকদের সামনে মধ্যরাতে হাজির হয়ে বাইডেন বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা নির্বাচন জেতার সঠিক পথে আছি। বিশ্বাস রাখুন। আমরা জিততে যাচ্ছি।’

তবে বাইডেন (৭৭) সতর্ক করে বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে যে মেইলে ভোট পড়েছে তা গণনায় দেরি হতে পারে।

জো বাইডেনের এ দাবির পরপরই ট্রাম্প টুইট করে বলেছেন, ‘আমরা বড় ব্যবধানে জিততে চলেছি।’

হোয়াইট হাউসে বসে নির্বাচনের ফলাফল দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

হোয়াইট হাউসের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কেলিয়ান কনওয়ে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কর্মকর্তাসহ অন্যরা সেখানে (হোয়াইট হাউস) আছেন।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-বাইডেনের নাটকীয় এ লড়াই ঘিরে নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থীই নিজেদের বলয়ে থাকা রাজ্যগুলোতে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু কোনো দলের পক্ষেই একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়নি।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও টেক্সাস নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। বাইডেন ভার্জিনিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে জিতেছেন। এর আগে হিলারি ক্লিনটনও এ দুই জায়গায় জিতেছিলেন। দুই পক্ষই তাদের প্রত্যাশিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে জিতবে বলে মনে করছে। তবে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে আরও কঠিন লড়াই দেখা যেতে পারে। কিছু কিছু রাজ্যের ফলাফলের জন্য আদালতের দারস্থ হওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।

এখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলো তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব ফলাফল দিচ্ছে তাতে একধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দখলে থাকা অ্যারিজোনায় জিতেছেন বাইডেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। যদি এ তথ্য নিশ্চিত হয় তবে পুরো ভোটচিত্র বদলে যেতে পারে। তবে অন্য কোনো গণমাধ্যমে অ্যারিজোনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি। রিপাবলিকান গভর্নর ডগ ডসি বলেছেন, ফলাফল নিয়ে এখনই কথা বলার সময় আসেনি।

অনেক আগে থেকেই ট্রাম্প ফ্লোরিডায় জিতে গেছেন বলে গণমাধ্যমগুলোতে তুলে ধরা হচ্ছে। নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার ফলাফলও পরিষ্কার করা হয়নি। এখন পর্যন্ত সেখানে ৯৫ ও ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা যে ব্যাপক জয়ের আশা করেছিলেন, ফলাফলের প্রাথমিক চিত্রে তা প্রতিফলিত হয়নি। ফ্লোরিডায় তাঁরা জিততে পারলে চিত্র অন্য রকম হতে পারত। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুই পক্ষের ভোটযুদ্ধ শেষতক সুইং রাজ্যগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেনসিলভানিয়া।

পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়াতে ভোট গণনার হার অনেকটাই ধীর। সেখানে ব্যাপক মেইল ভোট থাকায় পরিস্থিতিও জটিল। ডাকযোগে ভোট আসতে দেরি হওয়ায় ট্রাম্পের লাভ। কারণ এগুলো ডেমোক্র্যাট ভোট হতে পারে। ট্রাম্প নির্বাচনের পর দেরিতে আসা ভোটকে অবৈধ বলেছেন।

মঙ্গলবার টুইট করে ট্রাম্প বলেছেন, ভোটের পরে আসা এসব ভোটকে গণণায় ধরা যাবে না। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে সিনেটের দখলের আশা তাঁদের পূর্ণ না–ও হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *