করোনায় টানা রেকর্ড সংক্রমণ দেখছে বিশ্ব

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়ার দশ মাস পর টানা রেকর্ড সংক্রমণ দেখছে বিশ্ব। গত একদিনে বিশ্বের পৌনে ৬ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। থামছে না প্রাণহানিও। আগের দিনের ন্যায় গত একদিনেও সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। 

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ জনের দেহে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯২ হাজার ২৭৪ জনে। নতুন করে ৭ হাজার ৪৯০ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২১৭ জনে ঠেকেছে।

আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতা লাভ করেছেন ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি ভুক্তভোগী। এর মধ্যে গত একদিনেই বেঁচে ফিরেছেন ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫২ জন রোগী।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৮৯টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি অঙ্গরাজ্যেই দীর্ঘ হয়ে চলেছে করোনা রোগীর সংখ্যা। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ২৯৭ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২  লাখ ৩৫ হাজার ১৫৯ জনের।

সংক্রমণের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১২১ হাজার ৬৮১ জনের।

প্রাণহানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও সংক্রমণে তিনে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনার শিকার ৫৫ লাখ ১৯ হাজার ৫২৮ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৫৬২ জনের।

চারে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনার ভুক্তভোগী প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ হাজার ৬৫৬ জন।

ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত করোনা হানা দিয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৩২ হাজার মানুষের দেহে। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ৩৬ হাজার ৫৬৫ জনের।

ছয়ে থাকা থাকা স্পেনে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১২ লাখ ৬৫ হাজার ছুঁতে চলেছে। প্রাণহানি ঘটেছে ৩৫ হাজার ৮৭৮ জনের।

দ্বিতীয় তরঙ্গে মহামারি গতি বাড়ছে যুক্তরাজ্যেও। প্রতি নয় দিনে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

গ্রিসে শুক্রবার থেকে লকডাউন জারি করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সমাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো। সংক্রমণ বাড়ছে জার্মানী এবং ইতালিতেও।

এদিকে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৬ হাজার ৩৬৪ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ২২ হাজার ৭০৩ জন সুস্থতা লাভ করলেও প্রাণহানি ঘটেছে ৫ হাজার ৯০৫ জনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *