বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৪১ বিলিয়ন ডলার!

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ভেঙে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ রিজার্ভ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। মূলত রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই বেড়েছে রিজার্ভ। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে আমাদানি বাণিজ্য কম হওয়াও অন্যতম কারণ। এ ছাড়া করোনাকালে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান আগের চেয়ে বেড়েছে। এসব কারণও ভূমিকা রেখেছে রিজার্ভ বৃদ্ধিতে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকলে তাকে ঝুঁকিমুক্ত দেশ হিসেবে ধরা হয়। গত কয়েক বছরের গড় হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশকে আমদানি বাবদ প্রতিমাসে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলার খরচ করতে হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এখন ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্য সময় রিজার্ভ বাড়ার ক্ষেত্রে রফতানি ভালো ভূমিকা পালন করলেও গত কয়েক মাস ধরে রফতানি বাণিজ্য অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। করোনার আগে থেকেই রফতানি বাণিজ্যে মন্দা যাচ্ছিল। করোনা আসার পর তা খুবই খারাপ অবস্থায় গেছে। অবশ্য গত জুলাই থেকে ধীরে হলেও বাড়তে শুরু করেছে রফতানি। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি ২৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার বেড়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দুই হাজার ১১৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। রফতানির এ ইতিবাচক দিকও রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে ৬৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *