৪ রক্তাক্ত মরদেহের পাশে কাঁদছিল ফুটফুটে ৫ মাসের শিশু

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুই সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে জবাই করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নিহতের ছোট ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে কোন একসময় কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার।

নিহতরা হলেন- খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (৯) ও মেয়ে তাসনিম (৬)। হত্যাকারীরা এ সময় ওই পরিবারের ৪ মাসের শিশু কন্যা মারিয়াকে হত্যা না করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার পরপরই সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানসহ সিআইডি, গোয়েন্দা পুলিশ, ডিএসবি, র‌্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকার শতশত লোক নিহত পরিবারকে দেখার জন্য ভিড় জমায়। নির্মম ও লোমহর্ষক এ হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে তারা ওই বাড়ির চিৎকার চেচামেচি শুনে ছুটে যান। পরে দরজা খুলে দেখতে পান সাবিনা খাতুন ও তার দুই শিশু তাসনিম ও মাহী একঘরে এবং আরেকটি ঘরে শাহীনুরের জবাই করা লাশ।

একই পরিবারে থাকা নিহত মাছ ব্যবসায়ী শাহীনুরের ছোটভাই রায়হানুল ইসলাম জানান, তিনি গোঙানির শব্দ শুনে দরজা খুলতে গেলে দেখেন বাইরে থেকে শিকল দিয়ে দরজা আটকানো। পরে তার চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা খুলে। পরে সবাইকে খবর দেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকারীরা সিঁড়ির ঘর দিয়ে ঢুকে তাদের খুন করে দরজায় শিকল দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশ ঘর থেকে একে একে পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাড়িতে তোলে। সেখানে পুলিশের ক্রাইম সেকশন কাজ করছে বলে সংবাদকর্মী ও অন্য কাউকে নিহতদের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক নিহতের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম আরও জানান, বড় ভাই শাহীনুর ইসলাম নিজস্ব ৭-৮ বিঘা জমিতে পাঙাস মাছের চাষ করতেন। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তাদের পারিবারিক সাড়ে ১৬ শতক জমি নিয়ে নিকট প্রতিবেশী ওয়াজেদ কারিগরের ছেলে আকবরের সাথে মামলা চলছিল। এই মামলা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *