আলুতে ব্যবসায়ীরা ‘অনৈতিকভাবে’ লাভ করছেন: কৃষিমন্ত্রী

আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আলু ব্যবসায়ীরা বর্তমানে প্রতিকেজি আলুতে অন্তত ২০ টাকা লাভ করছেন। এটা একেবারেই অনৈতিক।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ ও কৃষির সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কেজিপ্রতি খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা বেঁধে দেয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন কঠিন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু হতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগের ফলে সব আশঙ্কাকে পিছনে ফেলে করোনা মহামারির চরম বিরূপ পরিস্থিতি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। এ অর্থবছরে চালের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরো জানান, করোনাকালে ও করোনা পরবর্তীকালীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয়  নিরলসভাবে কাজ করছে। আউশ এবং আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে আউশের  আবাদ হয়েছে ১৩.২৯৬ লাখ হেক্টর এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৪.৫১৭ লাখ মেট্রিক টন। ফলে আউশের আবাদ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ হেক্টর ও উৎপাদন ৪ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া  এ বছর আমন ধান (রোপা ও বোনা আমন) আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ লাখ হেক্টর। কয়েক দফা বন্যায় রোপাআমন বীজতলা, চারা ও মাঠে দন্ডায়মান ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে বিনামূল্যে চারা বিতরণ, ভর্তুকি সহায়তা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে রোপা আমন ধানের আবাদে সহায়তা দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে বাজারে কেজিপ্রতি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বাজার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে তিন পর্যায়ে এই দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কেজিপ্রতি খুচরা পর্যায়ে ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা। এই দামে আলু বিক্রি না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *