শতাব্দীর ভয়াবহ’অ-পারমাণবিক বিস্ফোরণ’ ছিল বৈরুতে

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আগস্ট মাসে এক রাসায়নিক পদার্থের গুদামে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল – তা ছিল এ শতাব্দীর ভয়াবহতম ‘অ-পারমাণবিক’ বিস্ফোরণ।

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল বলছে, ওই বিস্ফোরণের আনুমানিক শক্তি ছিল কমপক্ষে ৫০০ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান।

টিএনটি হচ্ছে যুদ্ধে ব্যবহৃত বোমায় যে বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয় – তার সংক্ষিপ্ত নাম।

এটা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (পরমাণু বোমা ছাড়া) সবচেয়ে মারাত্মক প্রচলিত বোমার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।

গত ৪ঠা আগস্ট বৈরুতের বন্দর এলাকায় বহু বছর ধরে ফেলে রাখা প্রায় ২,৭৫০ টন এ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিহত হয়েছিলেন ১৯০ জন, আহত হন ৬ হাজারেরও বেশি লোক।

গবেষক দলের ড. স্যাম রিগবি বিবিসিকে বলেন, ওই বিস্ফোরণ ছিল যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘কনভেনশনাল’ বা প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে যেগুলো সবচেয়ে বড় – তার চাইতেও ১০ গুণ শক্তিশালী।”

তুলনা হিসেবে বলা যেতে পারে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় প্রচলিত মারণাস্ত্রগুলোর একটি হচ্ছে জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি – এর বিস্ফোরক ক্ষমতা হচ্ছে ১১ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান।

ড. রিগবি বলছেন, এটা নিশ্চিতভাবেই এ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অ-পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং ইতিহাসের ভয়াবহতম ১০টি অ-পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি।

তবে পারমাণবিক বোমার শক্তি এই বিস্ফোরণেরও প্রায় ২০ গুণ বেশি।

হিরোশিমায় ১৯৪৫ সালে যে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয় – তার শক্তি ছিল ১৩ থেকে ১৫ কিলোটন টিএনটির সমান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈরুতের বিস্ফোরণের অনেকগুলো ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল।

এই গবেষক দল ওই বিস্ফোরণের এরকম মোট ১৬টি ভিডিও দেখেছেন এবং সেখানে পাওয়া তথ্য থেকে বিস্ফোরণটির শক্তি হিসেব করেছেন।

পৃথিবীতে সবচেয়ে মারাত্মক অ-পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটেছিল ১৯১৭ সালে নোভাস্কোশিয়ার হ্যালিফ্যাক্সে – একটি বিস্ফোরকবাহী জাহাজের সাথে অন্য আরেকটি জাহাজের সংঘর্ষে।

ওই বিস্ফোরণটি ছিল প্রায় ৩ কিলোটন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে এক এ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণ ঘটেছিল – যার শক্তি ছিল বৈরুতের অর্ধেক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *