নিজেদের মাঠে বার্সার হোঁচট

ন্যু ক্যাম্পে জয়ের স্বাদ কেমন, সেটা সেভিয়ার অনেকেই ভুলে গেছেন। কম তো নয়, আগের ১৭বার কাতালানদের মাঠে গিয়ে জয় ছাড়া ফিরেছে তারা। গতকালও এর ব্যত্যয় হবে, এমনটা ভাবা কঠিন ছিল। লিগের শুরু থেকে দুর্দান্ত ফর্মে আছে সেভিয়া, কিন্তু দলবদল সংক্রান্ত সব নাটক পাশ কাটিয়ে বার্সাও তো প্রতিপক্ষকে গোলের মালা পড়াচ্ছে। ম্যাচটা শেষ হলো তাই সমতায়, ১-১ গোলে।

গতকাল কেউ যদি খেলা দেখতে বসে ১০ মিনিট দেখার পর ঘুমিয়ে পড়েন, তবু তাঁর কোনো আফসোস থাকবে না। কারণ, ম্যাচের উত্তেজনাকর সব মুহূর্ত ততক্ষণে শেষ। ৭ মিনিটে বার্সেলোনা রক্ষণের ভুলে সেভিয়াকে এগিয়ে দিয়েছেন লুক ডি ইয়ং। গোল উপহার পেয়ে প্রতিদান দিতে ভোলেনি সেভিয়া। এর ১০৫ সেকেন্ড পরই হেসুস নাভাসের সুবাদে বল পেয়ে যান ফিলিপে কুতিনিও। এক বছর পর বার্সেলোনার জার্সিতে গোল করলেন ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়।

রোনাল্ড কোমানের অধীনে আলো ছড়াচ্ছেন কুতিনিও। এ নিয়ে লিগে তিন ম্যাচে তিনটি গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন এই প্লেমেকার। ধারে বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়ার আগে তিনটি গোলে অবদান রাখতে ২৪ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল তাঁকে। কোমানের ফরমেশনে মাঠের দশ নম্বর পজিশন ফিরে পাওয়াটা যে ভালো দাওয়াই হিসেবে কাজ করছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কুতিনিওর ফর্মে ফেরাও বার্সাকে জয় এনে দিতে পারেনি। এর পেছনে একটাই কারণ, কাল মেসির দেখা না পাওয়া।

ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ ক্লাবগুলো বাদে মেসির কোনো প্রিয় প্রতিপক্ষ থাকলে সেটা সেভিয়া। এ দলটির বিপক্ষে গোল ও গোলে সহায়তা ম্যাচ প্রতি একটির বেশি তাঁর। কিন্তু কাল কেন যেন প্রিয় খাবারে অরুচি দেখা গেল। আনসু ফাতি, আঁতোয়ান গ্রিজমান এমনকি ক্লাবের নতুন মুখ ফ্রান্সিস্কো ত্রিনকাও গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি। আর মেসি বড় কোনো সুযোগও পাননি। উল্টো দিকে সেভিয়াকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ দুবার হাতছাড়া করেছেন জুলস কুন্দে। ম্যাচের শেষ দিকে একটু এদিক-ওদিক হলে ১৮তম ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেয়েও যেতে পারত সেভিয়া। কিন্তু ইউসুফ এন-নেসিরি হাতছাড়া করেছেন সে সুযোগ।

ম্যাচ শেষে তাই সেভিয়ার প্রশংসা করতে দ্বিধা করেননি কুতিনিও, ‘আমরা জানতাম এটা কঠিন এক ম্যাচ হবে এবং সেটাই হলো। সেভিয়া দুর্দান্ত এক দল এবং তারা খুবই ভালো খেলেছেন। ওরা মিডফিল্ড দখল করে রেখেছিল এবং আমরা সেটা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। অবশ্য একটি পয়েন্ট অন্তত পেয়েছি। এক সপ্তাহে তিনটি ম্যাচ খেলা কঠিন। তবে মৌসুম তো মাত্র শুরু হলো। আমরা দ্রুতই এতে অভ্যস্ত হয়ে যাব।

কুতিনিও ড্রতে সন্তুষ্ট হলেও সেভিয়া সেটা মানতে পারছে না। এ ম্যাচ শেষে জয় প্রাপ্য বলেই মনে হচ্ছে সেভিয়া কোচ হুলেন লোপেতেগির, ‘এ মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরাও কঠিন কিন্তু আমি সন্তুষ্ট নই। কারণ আমরা বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছি। কঠিন ম্যাচ ছিল এটি, ওরা দারুণ এক দল কিন্তু দুঃখের কথা যে এ ম্যাচ থেকে আরও বেশি কিছু পেলাম না। বর্তমানে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছি কিন্তু আমাদের উচিত নিজেদের কাছ থেকে আরও বাড়তি কিছু দাবি করা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *