চার গোলে শুভ সূচনা কোমানের

গত এক মাস ধরে ক্লাবটায় যা হচ্ছে, তাতে বার্সেলোনা কি আদৌ একটা ফুটবল ক্লাব, না রঙ্গমঞ্চ— যারা ফুটবল নিয়মিত অনুসরণ করেন না তাদের মনের প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন, পুরোনো যোদ্ধারা উঠতে-বসতে কর্তৃপক্ষের দিকে বিদ্বেষ ঝাড়ছেন, সাবেক তারকারা সুযোগ পেলেই বোর্ডের বিপক্ষে মুখ খুলছেন—আক্ষরিক অর্থেই টালমাটাল অবস্থা ছিল বার্সেলোনার। সেই টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই একটু স্বস্তির সুবাতাস এনে দিল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ৪-০ গোলের সহজ জয়। এই জয় নিয়েই লিগে শুভসূচনা করেছে দলটা, শুরু করেছে লিগ পুনরুদ্ধারের মিশন।

ঘরের মাঠে এই জয় দিয়েই শুরু হলো বার্সায় রোনাল্ড কোমান অধ্যায়। নতুন এই ডাচ কোচের অধীনে বার্সার খেলা দেখে কে বলবে, গত এক মাসে এই দলটার ওপর দিয়ে কত ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে?

প্রথম থেকেই ভিয়ারিয়ালের ওপর চড়াও ছিল বার্সেলোনা। প্রথমার্ধেই চার গোল করে ফেলে তারা। দুই গোল করে বার্সা সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী আনসু ফাতি। মেসিহীন বার্সার সবচেয়ে বড় কান্ডারি এই স্প্যানিশ তরুণ হবেন, এমনটাই আশা সমর্থকদের। সে আশার পালে আরেকটু হাওয়া পড়ল তাতে। গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসিও। বাকি গোলটা আত্মঘাতী।

বার্সেলোনা যে চিরাচরিত ৪-৩-৩ ছক থেকে বেরিয়ে এসে ৪-২-৩-১ ছকে খেলতে পারে এই মৌসুমে, এমনটা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। সেই অনুমানকে সত্যি করে দিয়ে রোনাল্ড কোমান দলকে নামালেন নতুন এই ছকে। সবার ওপরে মেসি, পেছনে ফিলিপ কুতিনিও, দুপাশে গ্রিজমান ও ফাতি। মিডফিল্ডে তিনজনের জায়গায় দুজন ; সের্হিও বুসকেতস ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। রক্ষণভাগে যথারীতি রবার্তো, পিকে, লংলে ও আলবা। পেছনে চোটের কারণে ছিলেন না নিয়মিত গোলরক্ষক টের স্টেগেন, তাঁর জায়গায় খেলেছেন বিকল্প গোলরক্ষক নেতো।

গোল পেতে পনেরো মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সেলোনাকে। ১৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। প্রতিপক্ষ ডি-বক্সের একদম কোনা থেকে ফাতির উদ্দেশ্যে কাটব্যাক করেন লেফটব্যাক আলবা, এক শটে সেটা ভিয়ারিয়ালের জালে ঢুকিয়ে দেন ফাতি। শটের বেগ এতই বেশি ছিল, সময়মতো হাত নাড়ানোরও সুযোগ পাননি ‘ইয়েলো সাবমেরিন’দের গোলরক্ষক সের্হিও আসেনহো।

চার মিনিট পর আবারও ফাতি-জাদু। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যান মেসি। বাঁ দিকে একই গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফাতিকে খুঁজে পেতে সমস্যা হয়নি বার্সা অধিনায়কের। ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের শটে বাকি কাজটা করে ফেলেন ফাতি। ১৯ মিনিটেই দুই গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। ডি-বক্সে এই তরুণ তারকার ফিনিশিং মুগ্ধ করেছে বেশ। এত কম বয়সে ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে এত পরিপক্বতার ছাপ ক’জন রেখেছে এর আগে, প্রশ্ন উঠতেই পারে।

৩৫ মিনিটে মেসি গোল পেলেও, তাতে ছিল ফাতির ছোঁয়া। ভিয়ারিয়ালের অধিনায়ক রাইটব্যাক মারিও গাসপার ডি-বক্সে অন্যায়ভাবে ফেলে দিয়েছিলেন ফাতিকে। ফলে পেনাল্টি পায় বার্সা। সেখান থেকে গোল করতে মোটেও সমস্যা হয়নি বার্সা অধিনায়কের।

পাঁচ মিনিট পর বার্সার হয়ে এই মৌসুমে নিজের প্রথম গোলটা পেয়েই যাচ্ছিলেন কুতিনিও। আসেনহোর দৃঢ়তায় সে যাত্রা রক্ষা পায় ভিয়ারিয়াল।

শুভ সূচ

প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে মিডফিল্ড থেকে মেসির সুযোগসন্ধানী এক বল খুঁজে নিতে চেয়েছিল ডি-বক্সে স্ট্রাইকারের জায়গায় থাকা সের্হিও বুসকেতসকে। বুসকেতস গোল করবেন কি, উলটো সে ক্রস আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালে ঢুকিয়ে দেন ভিয়ারিয়ালের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পও তোরেস। বর্তমানে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের মধ্যে এই তরুণকে অনেক প্রতিভাবান মানা হয়। ভবিষ্যতে নিজেদের রক্ষণভাগ সামলানোর জন্য এই তরুণকে মনে ধরেছে বার্সার, এমনটা কিছুদিন আগেও শোনা গিয়েছিল। সে লক্ষ্যে এই ম্যাচটা এক রকম ‘অডিশন’ ছিল তোরেসের জন্য। সে ‘অডিশনে’ ফেলই করলেন যেন এই তরুণ!

দ্বিতীয়ার্ধে ভিয়ারিয়াল তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও লাভ হয়নি। গোল করে ব্যবধান কমাতে পারেনি তাঁরা। দ্বিতীয়ার্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দশ মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ওসমান দেম্বেলের ফেরা। ফরাসি এই উইঙ্গার চোটে পড়ে এই দশ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন।

শেষ দিকে দেম্বেলে ছাড়াও ত্রিনকাও, পেদ্রিদের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের ঝলক দেখার সুযোগ মেলে বার্সা সমর্থকদের। শেষমেশ সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *