শেষ মুহূর্তের নাটকে ম্যাচ জিতল ম্যানইউ

দুর্ভাগ্য, নাটক নাকি অন্য কিছু? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ব্রাইটনের ম্যাচটির বর্ণনায় কোন শব্দ বেছে নেবেন দর্শকেরা। একদিকে চরমতম দুর্ভাগ্যের শিকার ব্রাইটন আর ওদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পেয়েছে নাটকীয় জয়। নাটকটা এমনই জমে উঠেছিল যে খেলার শেষ বাঁশি বাজার পরও খেলা শেষ হলো না, তারও ৫ মিনিট পর ব্রুনো ফার্নান্দেজের পেনাল্টি গোলে জয় পেয়েছে ইউনাইটেড।

৯৪ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে ম্যানচেস্টার। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ২-২ গোলে সমতায় ফিরে ব্রাইটন। নাটকটা তখনো বাকি। খেলার শেষ মুহূর্তে ম্যানচেস্টার অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়ারের হেড গোল লাইন থেকে ব্রাইটন থেকে ফেরালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ম্যাগুয়ার তারস্বরে চিৎকার করে চললেন পেনাল্টির দাবি জানিয়ে।  ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিও জানাল বলটা ম্যাগুয়ারের মাথা ছুঁয়ে গোলে যাওয়ার আগ মুহূর্তে হাতে লেগেছে ব্রাইটন স্ট্রাইকার মপের। ব্যস, পেনাল্টি ফপেয়ে যায় ম্যানচেস্টার। যোগ করা সময়ের ১০ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করেন ফার্নান্দেজ। ২০১১ সালের পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এত দেরিতে কেউ গোল করলেন। ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ফেলে দেওয়া এ গোলেই নতুন মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগেই প্রথম জয় পেল ইউনাইটেড।

অথচ লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেতে পারত ব্রাইটন। ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে দলটি। পাঁচবার বল ক্রস বার ও পোস্টে লেগেছে, একটি পেনাল্টি বাতিল করেছে ভিএআর। বলা যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দিককার পোস্টের জন্যই আজ জেতা হলো না ব্রাইটনের। গত মৌসুমে লিগে তিনে শেষ করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর ব্রাইটন শেষ করেছিল পনেরোতে। অথচ নতুনে মৌসুমে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। ম্যানচেস্টারকে ভালোই নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছে তারা।

শুরু থেকেই রাশফোর্ড, পগবাদের কোণঠাসা করে রাখেন টোসার্ডরা। বক্সের ওপর থেকে বেলজিয়াম মিডফিল্ডার লেন্দ্রোর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে না এলে তো ৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাইটন। ৩০ মিনিটে তাদের আরও একটি শট ক্রসবারে লাগে। নিল মপের ক্রসে এডাম ওয়েবস্টারের হেড ক্রসবারে লেগে যায় বাইরে। এর ৯ মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে পানেনকা শটে গোল করে ব্রাইটনকে এগিয়ে নেন মপে। তারিক ল্যাম্পটিকে বক্সে ফেলে দিয়েছিলেন ফার্নান্দেজ।

অবশ্য ম্যানচেস্টারের ম্যাচে ফিরতে সময় লেগেছে মাত্র ৫ মিনিট। বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪৪ মিনিটে ১-১ করেন ম্যানচেস্টার অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়ার। ফার্নান্দেজের ফ্রিকিক থেকে গোল লাইন থেকে বলে পা লাগিয়ে গোলমুখে রেখে ছিলেন নেমানিয়া মাতিচ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ডাঙ্কের পায়ের ফাঁক দিয়ে পা বাড়িয়ে ইউনাইটেড অধিনায়ক বল পাঠিয়েছেন জালে। যদিও গোলটি আত্মঘাতী বলেই লেখা হয়েছে।

বিরতি থেকে ফিরেই আবার এগিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ব্রাইটনের। ২ মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় তারা। তবে ভিএআর সেটা বাতিল করে দিয়েছে। ৫২ মিনিটে ম্যানচেস্টারেরও কপাল পুড়িয়েছে ভিএআর। রাশফোর্ড গোল করে বসলেও ভিএআরে দেখা যায় অফসাইডে ছিলেন তিনি। ৩ মিনিট পরেই দুর্দান্ত এক গোল করে সে দুঃখ ভুলেছেন এই স্ট্রাইকার। পাল্টা আক্রমণে বাম প্রান্ত থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে ইনসাইড আউটসাইড ডজে ব্রাইটন ডিফেন্ডারকে মাটিতে গড়াতে বাধ্য করেন। এরপর সময় নিয়ে বাম পায়ের শটে গোলটি করেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। আর শেষ দিকে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে হয়েছে মূল নাটক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *