ট্রাম্পের সমালোচনা করায় ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’র পুরস্কার পাচ্ছেন না সাংবাদিক

ট্রাম্পের অপশাসনের সমালোচনা করায় ‘বার্ষিক আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’র পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ফিনিশের সাংবাদিক জেসিক্কা আরো। হেলসিঙ্কিস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে তাকে এই পুরস্কারের জন্যে মনোনীত করার তথ্য জানানো হয়েছিল। তিনি সবধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের অপারগতার কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রতি বছরের মত এবারও মার্চে সেই পুরস্কার হস্তান্তর করা হয়েছে সারাবিশ্বের ১০ সাহসী নারীর মধ্যে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিস থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, পুরস্কার দেয়া, না দেয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তা পরিবর্তনের এখতিয়ার রয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের। সে আলোকেই তারা জেসিক্কা আরোর নাম শেষ মূহূর্তে বাদ দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিস অবশ্য উল্লেখ করে যে, ফেসবুক এবং টুইটারে ট্রাম্পের কিছু কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের কঠোর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জেসিক্কার নাম ওই তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে অথাৎ ২০০৭ সালে প্রবর্তিত এই সাহসী নারীর অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয় মার্চে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে।। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও শান্তি, ন্যায়-বিচার, মানবাধিকার ও লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কিংবা কোনো সংস্থার নেতৃত্ব প্রদানকারীদের বাছাই করা হয় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস/হাই কমিশনের সুপারিশে। জেসিক্কা ফিনল্যান্ডের গণমাধ্যমে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটারের মধ্যে বিভান্তিকর প্রচারণা চালানোর সংঘবদ্ধ একটি ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এই হুমকির কারণে তিনি পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেন। জেসিক্কা ছিলেন চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর্বে ৫৫ জনের একজন। এর মধ্য থেকে ১০ জনকে প্রদান করা হয় পুরস্কার। সে তালিকায় তিনিও ছিলেন। হেলসিঙ্কি দূতাবাস গত জানুয়ারিতে তাকে অবহিত করেছিল যে, মার্চে তাকেও সেই পুরস্কার দেয়া হবে।

চূড়ান্ত তালিকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘গ্লোবাল উইমেন্স ইস্যু’ অফিসের লোকজন জেসিক্কার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষন করেন। সাংবাদিকরা আমেরিকানদের শত্রু এবং ভুয়া নিউজের অপর নাম বলে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোকে সমালোচনা করা হয়েছে। এমন মতামতকে প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত আচরণ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে এই পুরস্কার দেয়া ঠিক নয় বলে সুপারিশের পরই তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *