ধোনির দল হেরেই চলছে

একদিকে একঝাঁক বুড়ো। অন্যপাশে প্রায় সব তরুণ। গত আইপিএল থেকেই চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের খেলা হলে এই তুলনা চলে আসে। ২০১৯ আইপিএল পর্যন্ত তরুণদের ওপর বুড়োরাই রাজত্ব করেছে। গ্রুপ পর্বে দুইবারের দেখায় দুইবারই জিতেছে চেন্নাই, একবার চেন্নাইয়ের মাঠে, আরেকবার দিল্লির মাঠে। প্লে-অফে এসেও বড়রাই দেখিয়ে দিয়েছে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব। এবারের আইপিএলে এসে গল্পটা কিছুটা পাল্টে গেল। আজ দুবাইয়ে চেন্নাইকে গ্রুপ পর্বের প্রথম দেখায় হারিয়ে দিল দিল্লি!

মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সর্বশেষ দুই আইপিএলের মতো এবারও বুড়োদের নিয়ে দল সাজিয়েছে। আর দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজি গত বছর একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে তুলে দিয়েছে আধুনিক ক্রিকেটের কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের হাতে।
কোচ হিসেবে পন্টিং বিশ্বসেরাদের একজন। এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস চ্যাম্পিয়ন করেছেন । গতবার দিল্লির দায়িত্ব নিয়েই এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে প্রায় ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনবার বিশ্বকাপজয়ী এই অস্ট্রেলিয়ান। কিন্তু চেন্নাই বাঁধ সাধে প্লে-অফে। অভিজ্ঞতার কাছে হেরে যেতে হয় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

গতবারের সেই হারের স্মৃতি নিশ্চয়ই আয়ার-পন্তরা ভোলেননি। এবার কিছুটা হলেও সেই প্রতিশোধটা নিল দিল্লি। সঙ্গে সমুদ্রসমান আত্মবিশ্বাসও পেল দিল্লির তরুণেরা। সবার চোখে চোখ রেখে লড়তে নিশ্চয়ই এখন আগের মতো ভয় পাবেন না পন্টিংয়ের শিষ্যরা।

আজ আগে ব্যাট করে দিল্লি ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান তোলেনি। কিন্তু মাঝের ওভারে ঠিকই চেন্নাইয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন দুই ওপেনার পৃথ্বী শ ও শিখর ধাওয়ান। তিন পেসার দীপক চাহার, স্যাম কারেন ও জস হ্যাজেলউডের প্রথম স্পেলের পর দুই স্পিনার পীযূষ চাওলা ও রবীন্দ্র জাদেজার ওপর চড়াও হয়ে ওপেনিং জুটিতে ৯৪ রান যোগ করে শ-ধাওয়ান জুটি।
শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এই ওপেনিং জুটিই। চাওলার স্পিনে রান করলেও তাঁর বলেই আবার ৩৫ রানে ধাওয়ান আউট হন। দ্রুতই ৪৩ বলে ৬৪ রান করা পৃথ্বীও আউট হন। এরপর আবার পেসাররা বোলিংয়ে আসায় রান বাড়াতে পারেনি দিল্লি। ২০ ওভারে দিল্লির স্কোর থামে ৩ উইকেটে ১৭৫ রানে।

তাড়া করতে নেমে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা হয় চেন্নাইয়ের। মুরালি বিজয় ও শেন ওয়াটসন গত দুই ম্যাচের মতো আজও বল খরচা করে আউট হন। এরপর রান তাড়ার পুরো চাপটা এসে পড়ে তিনে নামা ফাফ ডু প্লেসির ওপর। তিনিও সঙ্গীর অভাবে হাত খুলে খেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৫ ওভার যেতে না যেতেই আস্কিং রান রেট বাড়তে বাড়তে ১৫ ছুঁয়ে ফেলে। ততক্ষণে ম্যাচ দিল্লির পকেটে।
ডু প্লেসি করলেন ৩৫ বলে ৪৩ রান। বাকিরা ক্রিজে এসে বল নষ্ট করে আউট হয়ে গেলেন। চেন্নাই শেষ পর্যন্ত করে ৭ উইকেটে ১৩১। দিল্লি ম্যাচ জেতে ৪৪ রানে। কাগিসো রাবাদা ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *