এবার কক্সবাজারের সব পুলিশ পরিদর্শককে বদলি

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা হত্যার পর ইমেজ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ফেরাতে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত ১৫০৭ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। একক কোনো জেলার সব সদস্যকে এ ধরণের বদলি দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আচরণে পরিবর্তন আনতে এ আদেশ বলে জানিয়েছেন ডিআইজি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা বদলি আদেশগুলো গত দুদিন ধরে একে একে পৌঁছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। প্রথমে শুধু পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে বদলি করা হলেও তার পরদিন সাতজন অতিরিক্ত এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়। তৃতীয় দফায় পরিবর্তন করা হয় আট থানার অফিসার ইনচার্জসহ ৬১ ইন্সপেক্টরকে।

সবশেষ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ১৩৯ জন এসআই, ৯২ জন এএসআই এবং ১ হাজার ৫৫ কনস্টেবল ও নায়েককে গণহারে বদলির আদেশ দেয়া হয়।

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, সর্বমোট ১৫০৭ জন পুলিশ সদস্য কক্সবাজারে যোগদান করবে এবং পূর্বে যারা কর্মরত ছিল তারা সকলে চলে যাবে। মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে কক্সবাজারে ইতিপূর্বে যারা কর্মরত ছিল তারা সকলে ভালো কাজ করেছে। আমরাও বিশ্বাস করি যে, তারা ভালো কাজ করেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার জন্য আমরা টোটাল চেঞ্জ করেছি।

দেশের ইতিহাসে এর আগে একযোগে একক কোনো জেলার পুলিশের সব সদস্যকে বদলির এমন নজির নেই। মূলত গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর পুরো দেশের পুলিশই ভয়াবহ ইমেজ সংকটের মুখে পড়ে। সংকট কাটাতেই এ বদলি আদেশ বলে মনে করছেন অপরাধ বিজ্ঞানীরা। তবে তারা পুরো পুলিশ প্রশাসনেরই আমূল পরিবর্তনের কথা বলছেন।

অপরাধ বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ আবার এটাও ঠিক যে শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা কিংবা ধনী তাদের হত্যা করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে না। সেরকম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা যেন না হয়।

কক্সবাজার থেকে বদলি হওয়া সব পুলিশ সদস্যের আগামী ২৮ এবং ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন ইউনিটে যোগ দিতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ ডিআইজি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, টেকনাফ এলাকায় মাদক এবং চোরাচালানের একটা বড় রুট আছে এবং সেই মাদক চোরাচালান বন্ধ করার জন্য আমরা টেকনাফ এলাকায় যতগুলো সংস্থা কাজ করি সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একসাথে কাজ করব। সেই সঙ্গে স্থানীয় লোকজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সবাইকে আমাদের সঙ্গে একসাথে কাজ করার জন্য আহ্বান জানাবো।

৩১ জুলাইয়ের প্রদীপকান্ডের পর টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ দাশ এবং বাহারছড়া ফাঁড়ি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *