বার্সাকে আদালতে নিচ্ছেন সাবেক কোচ সেতিয়েন

বার্সেলোনা যেন এখন এক রঙ্গমঞ্চ। সেখানে এক নাটক শেষ হতে না হতেই আরেক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। শুরুটা করেছিলেন লিওনেল মেসি, বার্সা ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে। তাকে আইনি লড়াইয়ের ভয় আর শেষে বুঝিয়ে শুনিয়ে কোনোরকমে ঠেকানো গেছে। এবার নতুন নাটক নিয়ে ন্যু ক্যাম্পে হাজির বরখাস্ত হওয়া কোচ কিকে সেতিয়েন। মেসির মতো কোনো রাখঢাক নয়, সরাসরি সাবেক ক্লাবকে আদালতে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যিনি।

বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর সেতিয়েনের চাকরি যাচ্ছে, সেটা সবারই জানা ছিল। ১৭ আগস্ট সেটা সত্যিও হয়েছে, বার্সা জানিয়ে দিয়েছে সেতিয়েনকে তাদের আর প্রয়োজন নেই।

ছাঁটাইয়ের পর এতদিন যখন সবকিছু ঠিক মনে হচ্ছিল, তখন একমাসের মাথায় বেরিয়ে এসেছে আরেক কাহিনী। স্প্যানিশ এক রেডিওর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০-২১ মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না বার্সার নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। কারণ বরখাস্ত হওয়া কোচ সেতিয়েনের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় আসতে পারেনি বার্সা। ফলে কাগজে কলমে এখনো তিনি বার্সার কোচ এবং একই কারণে কোম্যান এখনো নিবন্ধিত নন!

এখন সেতিয়েন নিজেই জানাচ্ছেন, আসলেই তা সত্যি। বৃহস্পতিবার নিজের কোচিং প্যানেলের তিন সদস্য এদের সারাবিয়া, জন পাসকুয়া এবং ফ্রান সোতোর হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। যাতে বলা হয়েছে, এই তিনজনকে বার্সায় নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।

বিবৃতিতে সেতিয়েন বলেছেন, ‘গত একমাস বার্সেলোনা বোর্ডের সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকার পর এবং আমাদের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও কেবল গতকাল আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সেটা ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে।’

‘এভাবে যোগাযোগই প্রমাণ করে গত ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ সালে আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছিল, সেসব শর্ত পুরোপুরিভাবে পূরণ করা হবে না।’

‘আমার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ১৭ আগস্ট যে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা তখনই কার্যকর করা হবে। যাই হোক গতকালের আগে, একমাস পর ১৬ সেপ্টেম্বর তারা আমাকে জানিয়েছে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কোনো শর্তপূরণ ছাড়াই।’

‘আমার কোচিং স্টাফদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গেই বলছি, তাদের গতকাল বলা হয়েছে ক্লাবের নির্দিষ্ট কিছু পদে তাদের পুনর্বহাল করা হবে। এরপর আমাদের মনে হয়েছে আমাদের চুক্তিপত্র আইনজীবীদের হাতে তুলে দেয়া উচিৎ। যাতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *