অনিশ্চিত শ্রীলঙ্কা সফর

শ্রীলঙ্কা সরকারের নির্দেশনা, অনুশীলন ছাড়াই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। বিসিবি সর্বোচ্চ ৭ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাজি।

শ্রীলঙ্কা প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য দল দিতে পারবে না বলে জাতীয় দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলকেও। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) আশ্বাস দিল সব রকমের সাহায্য সহযোগিতার। কিন্তু সফরের সময় যতই কাছে আসছে, ততই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে সব। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরটা হয় কি না, তা নিয়েই এখন সংশয়।

২০ সেপ্টেম্বর থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আবাসিক ক্যাম্প শুরু করে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা ২৭ সেপ্টেম্বর। তিন টেস্টের সিরিজের প্রথমটি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। কিন্তু সফরে বাংলাদেশ দলের সদস্যদের জন্য এসএলসির স্বাস্থ্য পরিকল্পনা কী হবে, সেটি কাল পর্যন্তও চূড়ান্তভাবে জানতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে এক দিনের কোয়ারেন্টিনের শুরুর অবস্থাটা যে আর নেই, সেটি নিশ্চিত।

এই সিরিজকে কেন্দ্র করে ‘কোয়ারেন্টিন’ শব্দটার নানা অর্থই এখন পর্যন্ত শোনা গেছে। বিসিবির দিক থেকে যেমন এর অর্থ, কোয়ারেন্টিনে অনুশীলন চলবে। এ সময় কোচ-ক্রিকেটাররা শুধু হোটেল আর মাঠে যাতায়াত করবেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটেরও শুরুতে এ রকম কোয়ারেন্টিনে সায় ছিল। কিন্তু এখন আবার সেটি বদলে হয়ে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কোয়ারেন্টিন। অর্থাৎ, কোয়ারেন্টিনকালে বাংলাদেশ দলকে পুরোপুরিই হোটেলবন্দী থাকতে হবে। এ সময় অনুশীলন করা যাবে না।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিসিবি হয়তো এটিও মেনে নেবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও প্রশ্ন-কোয়ারেন্টিনটা হবে কত দিনের? অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর কত দিন পর ক্রিকেটাররা অনুশীলন করতে পারবেন? কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কথায় ইঙ্গিত মিলল, সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত এমন কোয়ারেন্টিনে রাজি তারা। এসএলসি থেকে সর্বশেষ এমন প্রস্তাবই বিসিবিকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি, ‘সর্বশেষ তারা বলেছে সাত দিন আমাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তারপর আমরা নির্ধারিত কার্যক্রম করতে পারব।’কিন্তু এসএলসি শেষ পর্যন্ত সাত দিনের কোয়ারেন্টিনে স্থির থাকতে পারবে, নাকি সরকারের নির্দেশ মেনে বাংলাদেশ দলকে ১৪ দিনের পূর্ণাঙ্গ কোয়ারেন্টিনের প্রস্তাব দেয়, সেটিই এখন প্রশ্ন। কারণ, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাধ্যবাধকতা আছে যেন বাংলাদেশ দলকে অনুশীলন-সুবিধা ছাড়া ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তবে বিসিবিকে এসএলসি নাকি বলেছে, বাংলাদেশ থেকে ভাড়া করা বিমানে যে দলটা যাবে, সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করে তাদের জন্য ৭-১০ দিনের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা যদি শেষ পর্যন্ত হয়ও, তবু অন্য বিমানে যাওয়া দলের সদস্যদের অবশ্যই ১৪ দিনের পূর্ণাঙ্গ কোয়ারেন্টিন করতে হবে। যার অর্থ-জাতীয় দলের স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, ব্যাটিং পরামর্শক ক্রেইগ ম্যাকমিলান, এইচপির কোচ টবি রেডফোর্ড এবং সাকিব আল হাসানকেও মানতে হবে পূর্ণাঙ্গ কোয়ারেন্টিনের নিয়ম। ভেট্টোরি ও ম্যাকমিলানের নিউজিল্যান্ড থেকে এবং রেডফোর্ডের ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা। আর ২৮ অক্টোবর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা সাকিবের।

এভাবেই যদি সবকিছু হয়, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে এলোমেলো পরিস্থিতিতেই পড়ে যাবে বাংলাদেশ দল। প্রথমত, শ্রীলঙ্কায় অতিরিক্ত দিন থেকে যদি অনুশীলনই না করা যায়, তাহলে এর জন্য এত টাকা খরচ করবে কি না বিসিবি? ১৪ দিন বসে থাকা মানে তো ফিটনেস, দক্ষতা-সবকিছুতেই মরচে ধরা! আর খেলোয়াড়েরা সাত দিন পর অনুশীলনে নামতে পারলেও ভেট্টোরি-ম্যাকমিলানরা যদি তাঁদের সঙ্গী হতে না পারেন, তাহলে তাঁদের শ্রীলঙ্কা গিয়ে লাভ কী! তৃতীয়ত, সাকিবকে যদি ওখানে গিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করতে হয়, এত দিন পর মাঠে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতিটা তিনি কীভাবে নেবেন? কোয়ারেন্টিন নিয়ে শ্রীলঙ্কা যদি এমনই কঠোর থাকে, তাহলে সফরের সিদ্ধান্তটা বিসিবি বাদও দিয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র।

তার আগ পর্যন্ত বিসিবির অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে মূল আলোচনাটা আসলে চলছে এসএলসি ও সে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে। শ্রীলঙ্কা সরকার কোভিড পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইসোলেশন ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব দিয়েছে সেনাবাহিনীকে। তারাও বেশ কড়াকড়িভাবেই পালন করছে সে দায়িত্ব। এ অবস্থায় বাংলাদেশ দল কতটা ছাড় পায়, সেটিই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + four =

Translate »