প্রমাণ কোথায়? প্রশ্ন তুলে আজ জামিনের আর্জি রিয়ার

এই সময়, নয়াদিল্লি: মাদকের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। কিন্তু, এখনও তারা বলতে পারেনি, কত টাকার লেনদেন হত সেই কারবারে। কী কী মাদক আনা হত এবং তার পরিমাণ-ই বা কত ছিল।

তাহলে কীসের ভিত্তিতে মাদক আইনের ২৭(এ) ধারায় মামলা রুজু হল অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে? একই মামলায় ধৃত, সহ-অভিযুক্ত কাইজান যেখানে গ্রেপ্তারির পরই জামিন পেয়ে গেলেন সেখানে কেন এখনও গারদের ওপারে রাখা হয়েছে রিয়াকে? সূত্রের খবর, এই প্রশ্নগুলিকে সামনে রেখেই আজ, বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে রিয়ার জামিনের আবেদন জানাবেন তাঁর আইনজীবী।

এ দিকে, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে নামা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা যে ভাবে সব ছেড়ে মাদক নিয়ে পড়েছেন, তাকে হাতিয়ার করে এ দিন তীব্র কটাক্ষ করেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘রাজনৈতিক বসদের খুশি করতে নিজেদের কাজ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। সমুদ্র মন্থন করে অমৃতের জায়গায় মাদক তুলে এনেছে।

‘ সুশান্তর পাশাপাশি রিয়ার জন্যও সঠিক বিচারের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনা হল, গ্রেপ্তারির পর থেকেই রিয়ার হয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বলিউডের কিছু সিলিব্রিটি, এতদিন মোটের উপর বিতর্ক থেকে দূরেই থাকতে দেখা গিয়েছে যাঁদের। সুশান্তর পাশাপাশি এ বার রিয়ার জন্যও বিচার চাইছেন অনুরাগ কশ্যপ, বিদ্যা বালন এবং সোনম কাপুররা। তবে তারকারা সরব হলেও এখনও রিয়ার হয়ে সে ভাবে সওয়াল করতে দেখা যায়নি দেশের কোনও প্রথম সারির রাজনীতিককে। অধীরই প্রথম, যিনি সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তদন্ত নিয়ে।আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, রিয়ার জামিনের আবেদনে যে সওয়ালগুলি রয়েছে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে এনসিবিকে। তাতে বলা হয়েছে, ‘এই মাদকের মামলায় রিয়ার ভূমিকা যেটুকু হতে পারে (যদি আদৌ প্রমাণ হয়) তা হল, তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের জন্য সামান্য পরিমাণে মাদক কেনা। ভারতীয় আইনে যার সাজা সর্বাধিক এক বছরের জেল কিংবা জরিমানা।’ রিয়ার আইনজীবী মঙ্গলবারই দাবি করেছিলেন যে, ‘অভিনেত্রী অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে যে কথা তদন্তকারীরা বলছেন, তা মিথ্যা। জোর করে তাঁকে দিয়ে এই বয়ান নেওয়া হয়েছে।

তিনি এমন কিছুই বলেননি।’ জামিনের আবেদনেও এই বক্তব্যের উল্লেখ থাকছে। তাছাড়া, আইনজীবী মহলের মতে, স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না করলে, আদালতে তার তেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। এখানেই শেষ নয়। আদালতে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে রিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছে, কোনও মহিলা পুলিশকর্মীর উপস্থিতি ছাড়াই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। তৃতীয় দিনের জেরার পর অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে এনসিবি। এ দিন মুম্বইয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন রিয়ার আইনজীবী। কিন্তু, মাদকের মামলা শোনার এক্তিয়ার এই আদালতের নেই বলে বিষয়টি বিশেষ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে আজ হবে পরবর্তী পর্যায়ের আইনি লড়াই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *