জমি রেজিস্ট্রির দ্বন্দ্বেই কি ইউএনওর ওপর হামলা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের জমি ক্রয়ের দ্বন্দ্বেই কি এই হামলা? বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। জানা গেছে, গত ৪ মার্চ ওয়াহিদা উপজেলার খোদাদাতপুর মৌজায় তার বাবা ওমর শেখের নামে একটি দানপত্র দলিল করেন। দাতা আব্দুল মমিন সিদ্দিকী ও ফারুক সিদ্দিকী দুই ভাই। তাদের বাড়ি উপজেলার নুরজাহানপুর গ্রামে। এই জমি থেকেই যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমসহ তার সহযোগীরা বছরে দেড় লাখ টাকা করে চাঁদা পেতেন।

ইউএনও ওয়াহিদা খানম বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিত্সাধীন। প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম-পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। তিনি বর্তমানে এইচডিইউতে চিকিত্সাধীন আছেন। কেউ ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন। তবে ডান পাশ এখনো আগের মতোই অবশ হয়ে আছে। বোধ আছে কিন্তু নড়াতে পারছেন না।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলোচিত ঐ জমির এসএ রেকর্ডীয় মালিক খোদাদাতপুরের আজগর আলী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর আজগর আলীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের পর একই প্লটসহ অপর একটি প্ল­ট মিলিয়ে মোট ৩০ বিঘা জমির বরাদ্দ পান ঘোড়াঘাটের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মইদ সিদ্দিকী।

খোদাদাতপুর মৌজায় এই জমি ভোগদখলে ছিলেন মইদ সিদ্দিকীর ভাতিজা আব্দুল মমিন সিদ্দিকী ও ফারুক সিদ্দিকী। এসব জমিজমার বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল কি না? এমন প্রশ্ন তুলে পালশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ময়নুলের (মাস্টার) সমর্থক উপজেলা যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা প্রতি বছর এটি থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে মমিন ও ফারুককে চাষাবাদ করতে দেন। সেভাবেই এতদিন এই জমি চাষাবাদ করে আসছেলিন ঐ দুই ভাই। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়।

এই জমির বিষয়টি সেটেলমেন্ট অফিসারের সার্ভেয়ার তোফায়েল আহমেদের মাধ্যমে জানতে পেয়ে ক্রয় করার প্রস্তাব দেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াহিদা খান। এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেন ঘোড়াঘাট এসিল্যান্ড অফিসের হেড ক্লার্ক তোফাজ্জল হোসেন। গত ৪ মার্চ ওয়াহিদা খানম তার বাবার নামে দানপত্র রেজিস্ট্রি করে নেন এবং জমিটির দখল বুঝে নেন। কিন্তু জমিটিতে এখনো ধান চাষ করছেন আগের মালিক মমিন সিদ্দিকী ও ফারুক সিদ্দিকী। এরপর জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা ঐ জমিতে আর যেতে পারছেন না। ফলে তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। এতে ইউএনওর সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জমিটির দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যে রক্ত সম্পর্ক না থাকলেও কীভাবে দানপত্র দলিল সম্পাদন হলো তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি দলিল লেখক আব্দুল হালিম। ঘোড়াঘাট উপজেলায় এসিল্যান্ডের পদটি শূন্য থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ওয়াহিদা খানমই এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

গতকাল মঙ্গলবার ঘোড়াঘাট সাবরেজিস্ট্রার মনসুর আলীর সঙ্গে তার অফিসে দেখা করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দলিল রেজিস্ট্রির সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সাতটি দলিলের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছে। সার্টিফাইড কপি আজ রাতের (মঙ্গলবার) মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ময়নুল ও জাহাঙ্গীরসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানের জমি জবরদখল করে মোটা অঙ্কে বিক্রি করে থাকেন। অনেক জায়গায় তারা জমি টাকার ভিত্তিতে লিজও দিয়ে থাকেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 14 =

Translate »