পাথরঘাটা ইলিশে সয়লাব

একের পর এক ট্রলার ঘাটে ভিড়ছে। ট্রলারের ডেরা থেকে ইলিশ গুনে গুনে ঝাঁপিতে দিচ্ছে জেলেরা। ঝাঁপি ভরতেই শ্রমিকরা দৌঁড়ে সোজা বিএফডিসির শেডে। সেখানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে ইলিশ।

একটি ট্রলারের ইলিশ শেডে স্তূপ করার পর মানুষ ভিড় করছে। তাদের কেউ পাইকার ব্যবসায়ী, কেউ বা উৎসুক দর্শক। শুরু হয় হাঁকডাক। নিলাম ডাকা হয়, সর্বোচ্চ দামে কিনে নেন পাইকাররা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) ছিল এমনই উৎসবমুখর।

জেলেরা ইলিশের হিসাব রাখেন সংখ্যায়। এবারের খ্যাপে কত ইলিশ পেয়েছেন- জানতে চাইলে সোজা বলে দেন ৫ হাজার বা ১০ হাজার। ট্রলার থেকে ডাঙায় তোলার পর ইলিশের পরিমাণ নিরুপণ করা হয় ওজনে।

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৪ জুলাই থেকে মাছ ধরতে সাগরে যাওয়ার অনুমতি মেনে জেলেদের। কিন্তু তখন ইলিশ ধরা পড়েনি। গত কয়েক দিন ধরা পড়ছে। এখন দীর্ঘদিন বসে থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে তারা।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে কক্সবাজার, ভোলা, নোয়াখালী, পটুয়াখালীর বেশ কয়েকটি ট্রলার নোঙর করেছে। কথা হয় এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি সালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এলাকায় না গিয়ে এখানে এসেছেন। দ্রুত মাছ বিক্রি করে আবার সাগরে যাবেন। এখন ইলিশ ধরা পড়ছে। যতটা পারেন ধরার চেষ্টা করবেন।

উপকূলীয় ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বলেন, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত এই ঘাটে অর্ধশতাধিক ট্রলার মাছ বোঝাই করে ফিরেছে। এসব ট্রলার থেকে প্রায় ১২ হাজার মণ ইলিশ এসেছে।

বিএফডিসিতে ঘুরে দেখা গেছে, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৮শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ইলিশের মণ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ৫শ’ গ্রামের নিচের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা মণে।

বরগুনার স্থানীয় বাজারেও পর্যাপ্ত ইলিশ উঠছে। বাজারে মাইকে প্রচার করেও কেউ কেউ ইলিশ বিক্রি করছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনার জেলা শহরের মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ১ কেজি সাইজের ইলিশ প্রতিকেজি ৬০০ টাকা দরে, মাঝারি সাইজের ইলিশ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও ভিড় করে কিনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 4 =

Translate »