ছোট স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভ্যাসটা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায় খুব অল্প সময়ে

নেটফ্লিক্স তৈরি করে দেয় ঘরে বসে সিনেমা দেখার সুযোগ। শুরুতে অল্প পরিসরে শুরু হলেও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেতে খুব সময় লাগেনি। এরপর নিজেরাই শুরু করে প্রযোজনা। বড়পর্দার বাজেট চলে আসলো ছোটপর্দায়। এতে করে হল ব্যবসার পাশাপাশি বিশ্বে সিনেমার ভিন্ন বাজার তৈরি হয়। যা এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির জন্য ওটিটি (ওভার দ্য টপ মিডিয়া সার্ভিস) প্লাটফর্মের ব্যবসা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে অ্যামাজন প্রাইমও ব্যবসাও এগিয়েছে। নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন প্রাইম এই ব্যবসার পর প্রযোজনার সংখ্যাও বেড়েছে।

সেই আদলে ভারতেও এখন বেশ কয়েকটি ওটিটি প্লাটফর্ম যাত্রা শুরু করে। এরমধ্যে রয়েছে জি ফাইভ, হটস্টার, হইচই ইত্যাদি। শুরু করেছে সিনেমা প্রযোজনাও। বাংলাদেশেও সেই চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ব্যবসায়িক আস্থার জায়গা তৈরি হয়নি। তবে এই জোয়ারের সঙ্গে এগোলে নিকট ভবিষ্যতে এদেশেও ওটিটি প্লাটফর্মের বাজার নিয়ে আশাবাদী সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। নির্মাতা ইফতেখার চৌধুরী তার নতুন সিনেমা ‘মুক্তি’ নির্মাণ করছেন ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য। পরিচালনার পাশাপাশি প্রথমবারের মত প্রযোজনার করেন তিনি।

এই দেশের ওটিটি প্লাটফর্মের ভবিষ্যত্ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিনেমার বাজার এখন শুধুমাত্র হল মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল না। অনেক আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই নির্ভরশীলতা দূর হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এখনো হল নির্ভর সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। তবে এই সময়ের পরিবর্তন হবে। আমাদের এখানে কয়েকটি ওটিটি প্লাটফর্ম রয়েছে। অনেকেই এখন কাজ করছেন। শর্টফিল্ম, ওয়েবফিল্ম নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু একটু সময় দিতে হবে। আমাদের এখানেও বাজার তৈরি হবে। অনেকেই এরইমধ্যে আরো কাজ শুরু করবেন। এটি ইতিবাচক দিকে গেলে আমাদের সিনেমার বাজারটা আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।’

মহামারির জন্য এই বছর পুরো বিশ্বেই সিনেমার বাজারের মন্দা। কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে হলিউড ও বলিউড বাজারে। বিশ্বের অন্যান্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরও একই অবস্থা। শুটিং আর হল বন্ধ হওয়ায় তারকারাও ছিলেন ঘরবন্দি। তবে এই মন্দা অবস্থাতেও ওটিটি প্লাটফর্মের বাজার ছিল রমরমা। শুধু তাই নয়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ব্যবসা করেছে কয়েক গুণ। রেকর্ড গড়েছে ব্যবসায়। এমনকি সিনেমা সমালোচনাও হচ্ছে এই সিনেমাগুলো নিয়ে। তাই প্রযোজক ও পরিচালকরা এখন শুধু হলমূখি ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত না কেউ। ওটিটির বাজারা আরো বড় হলে আগামী কয়েক বছরে হল থেকে অনেকাংশে বের হয়ে আসবেন প্রযোজকরা। এমনটাই ধারণা বিশ্বে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশেও দর্শকদের হল বিমূখতা সিনেমার যেই ক্ষতি হচ্ছে সেটিও ওটিটি প্লাটফর্ম দিয়ে ফিরবে বলে আশা করছেন ঢালিউড পরিচালক, প্রযোজকরা ও সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 20 =

Translate »