ক্রিকেট আসলে জীবনের মতোই

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেটার তিনি। এই ধারাবাহিকতার রহস্য, নিজের কৌশল, ব্যক্তিগত জীবন এবং কোচ নিয়ে কথা বলেছেন লিটন দাস। একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়।

সর্বশেষ প্রায় এক বছর আপনি অবিশ্বাস্য ধারাবাহিক ছিলেন। এটার মূল্যায়ন করবেন?

ঐ সময়টা তো আমার এ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময়। আমার কাছে তাই মনে হয়। আসলে পরিসংখ্যান তো কথা বলে যে, ঐ সময় আমি কী করেছি। আমার মনে হয়, আমি ঐ সময় কষ্ট বেশি করেছি। সঠিক উপায়ে পরিশ্রম করেছি। সে কারণেই রেজাল্টটা পক্ষে এসেছে।

আপনি বলছিলেন, অনেক পরিণত হয়েছেন আগের চেয়ে। এই বদলটা কেমন?

আমি যখন প্রথম ন্যাশনাল টিমে ঢুকলাম, তখন আসলে অনেক কিছু বুঝতাম না। সিচুয়েশনটা বুঝতাম না আর কী। একটা সময় আমি আউট হয়ে গেলে, তার কী প্রভাব পড়বে, দলের কী হবে; এসব নিয়ে ভাবতাম না। আমার মনে হয়, অনেকদিন তো হলো ক্রিকেট খেলছি —জাতীয় দল, ঘরোয়া ক্রিকেট। খেলতে খেলতে এক ধরনের ম্যাচ টেম্পারামেন্ট বেড়েছে। আমি একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শিখেছি। এটাকেই আমি ম্যাচিউর হয়েছি বলে বলছি।

আপনার এই পরিণত হয়ে ওঠার সঙ্গে বিয়ে করার কী একটা সম্পর্ক আছে?

একেবারে সরাসরি তা বলব না। তবে একজন মানুষ বিয়ে করার পর, তাকে আসলে জীবনটা গুছিয়ে নিতে হয়। অনেক সময় মনে অনেক কিছু চায় না, তারপরও নিজেকে জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চাই। আমি এটাকে ক্রিকেটের সঙ্গে এভাবে মিলাই যে, অনেক সময় আমাদের কঠিন উইকেটে খেলতে হয়, খুব মুভমেন্ট থাকে বা খুব টার্নিং উইকেট; সেখানেও তো মানিয়ে নিতে হয়। আসলে উইকেট আর সংসার জীবন চাইলে মেলানো যায়। জীবনে যেমন উত্থান-পতন থাকে, তারপরও চালিয়ে যেতে হয়। ক্রিকেটেও একদিন ব্যাটিং উইকেট, একদিন বোলিং উইকেট; তারপরও মানিয়ে নিতে হয়।

দারুণ ফর্মে থাকা অবস্থায় প্রায় ছয় মাস ক্রিকেট মিস করলেন। আফসোস হচ্ছে?

হ্যা, আমি ঐ সময় আরো যত বেশি খেলতে পারতাম, হয়তো আমার জন্য ভালো হতো। কিন্তু অন্য একটা দিকও আছে। আসলে প্রতিটা ম্যাচই তো শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। এমনও হতে পারতো যে, ভালো খেলার ফলে একটা অতি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গেল। ফলে আমি খারাপ খেলে ফেললাম। তাই এই বিরতিটা হয়তো আমার জন্য ভালোই হয়েছে। আবার শুরু করলে বুঝতে পারব।

ঐ ফর্মটা হারিয়ে ফেলার ভয় পান?

আসলে ফর্মের তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগের দিন ১০০ মেরেও পরের দিন শূন্য হতে পারে। তাই অতীতের ওটাতে আমি ভরসাও করছি না, ভয়ও পেতে চাচ্ছি না। আমার মনে হয়, বরং সামনে তাকানো ভালো।

আপনার ঘনিষ্ঠ কোচ ছিলেন নীল ম্যাকেঞ্জি। তাকে মিস করবেন?

হ্যা, ডেফিনেটলি মিস করব। অবশ্য ওর সঙ্গে আমার এখনো যোগাযোগ আছে। কথা হয়। হয় কী, একটা মানুষের সঙ্গে তো একটা মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, একটা বোঝাবুঝি তৈরি হয়। উনি আমার জন্য একজন খুব ওপেন কোচ ছিলেন, ওনার সঙ্গে সব শেয়ার করতে পারতাম। ও বুঝতে পারতো, আমি ঠিক কী চিন্তা করছি। তবে দেখা যাক, সামনে যিনি আসছেন, ওনার সঙ্গেও হয়তো ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে।

লকডাউনে বেশ ছবি এঁকেছেন বলে শুনলাম।

(হাসি) হ্যা, ছবি এঁকেছি এই সময়টায়। তবে এমন না যে, আমি ছোটবেলা থেকে ছবি আকতাম। আসলে লকডাউনের সময়টায় সময় কাটানোর জন্য অনেক কিছু করেছি। লুডু খেলেছি, রান্না করেছি, দাবা খেলেছি। সেই সঙ্গে একদিন ভাবলাম, ছবিও আকি। আমি আর আমার স্ত্রী একসঙ্গে কিছু আঁকাআঁকি করতাম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 10 =

Translate »