বিজেপি ও শিবসেনা ক্ষেপেছে কঙ্গনার উপর, মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ

একজন ভালো অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও বেফাঁস কথাবার্তার জন্য বছরজুড়েই সমালোচনার শীর্ষে থাকেন কঙ্গনা রানাউত। প্রায়ই তাকে দেখা যায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে। বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে তিনি যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন। যাকে তাকে কথার বাণে বিদ্ধ করছেন। তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বলিউডের নামি দামি তারকাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সুশান্ত ভক্তদের উস্কানি দিয়ে বলিউডের সম্মান নষ্ট করার। এবার তিনি নিজেই পড়ে গেলেন বিপাকে।

সুশান্তের মৃত্যুর পর সে মামলার তদন্ত নিয়ে মুম্বাই পুলিশের বিপক্ষে গলা ফাটিয়েছিলেন। ভারতের মহারাষ্ট্র মুম্বাইকে তুলনা করেছিলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে। আর তাতেই মুম্বাইবাসীদের রোষানলে পড়তে হল অভিনেত্রী কঙ্গনাকে।

তার ছবিতে লাগানো হল কালি, ছেঁড়া হল ছবি। এখানেই শেষ নয়, ‘তার মুম্বাইয়ে থাকার কোনো অধিকারই নেই’, বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানালেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ।

এক টুইটে বৃহস্পতিবার কঙ্গনা লেখেন, ‘শিবসেনা নেতা আমায় হুমকি দিয়ে বলেছেন মুম্বই না আসতে। কেন, মুম্বাই আজকাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর বলে মনে হয়?’ মুম্বাই পুলিশকেও একহাত নেন কঙ্গনা। সুশান্ত-কাণ্ডে মুম্বাই পুলিশের ভূমিকা থেকে শুরু করে, এক পোস্টে লাইক করা নিয়ে টুইটারে রীতিমতো যুদ্ধ বেঁধে যায় তার। কঙ্গনা লেখেন, ‘ক্রিমিনাল কেসে নিজেকেই শিকার হিসেবে প্রতিপন্ন করা তোমাদের পুরনো ধান্দা। লজ্জা হওয়া উচিত মুম্বাই পুলিশ।’

এর পরেই ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্বরা, দিয়া মির্জার মতো তারকারা যেমন কঙ্গনার বিপরীতে যান, ঠিক তেমনই নেটাগরিকদের একাংশও মুম্বাই নগরীকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করায় ক্ষেপেছেন কঙ্গনার উপর। কঙ্গনার নাম উল্লেখ না করে অনিল দেশমুখ শুক্রবার সংবাদ সংস্থাকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মুম্বাই পুলিশকে স্কটল্যান্ড ওয়ার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুম্বাই পুলিশকে এইভাবে বলার পর মুম্বাইয়ে থাকার কোনো অধিকার নেই তার।’

পাশাপাশি মুম্বাইয়ের বিজেপি মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিজেপি সমর্থক হলেও মহারাষ্ট্র সম্বন্ধে এরকম মন্তব্য করায় কঙ্গনাকে তারা কোনো দিক থেকেই উৎসাহ দেবেন না। এমনকী শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতকে অনুরোধ করা হয়েছে, যতদিন সুশান্তের মৃত্যু মামলা চলবে ততদিন তিনি যদি কঙ্গনার কথায় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তাহলে খুবই ভালো হয়।

সে প্রেক্ষিতে শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘আমরা মহারাষ্ট্রবাসীরা সেই ১০৬ শহিদের কথা কখনও ভুলব না। যারা আমাদের বিপদের দিনে রক্ষা করেছিলেন। প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। কঙ্গনা একবার পাকিস্তান থেকে ঘুরে এসে তারপর এইরকম মন্তব্য করতে পারতেন। কঙ্গনা মুম্বাই পুলিশকে অপমান করেছেন। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব একটি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।’

এছাড়াও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন এরপর মুম্বাই নিয়ে কোনো রকম বিরূপ মন্তব্য করলেই যেন কঙ্গনার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতেই মুম্বাইয়ে কঙ্গনার থাকার যে কোনো অধিকার নেই সেকথা সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ।

থেমে থাকেননি কঙ্গনাও। তিনিও টুইটারে পাল্টা লেখেন, ‘পা-চাটার দলদের হঠাৎ করেই মহারাষ্ট্রের উপর ভালবাসা উথলে উঠছে। মরাঠা সাম্রাজ্যের গর্ব শিবাজি মহারাজ এবং রানি লক্ষ্মীবাইয়ের চরিত্র কিন্তু আমিই বড় পর্দায় নিয়ে এসেছিলাম। মহারাষ্ট্র কারও বাবার নয়। মহারাষ্ট্র তাদেরই যারা মরাঠা গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তুমি আমার কী করবে?’

শুক্রবার টুইটে কঙ্গনা বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, আমায় মুম্বাইয়ে না আসার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই এই সপ্তাহেই ৯ সেপ্টেম্বর আমি মুম্বাই যাচ্ছি। আমি মুম্বাই এয়ারপোর্টে পৌঁছনোর সময় জানিয়ে দেব। কারোর বাবার সাহস থাকলে আটকে দেখান।’

বিতর্ক থামছেই না। নিজের ক্যারিয়ারকে কি নিজেই বড় চ্যালেঞ্জের সামনেফেললেন ‘কুইন’?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × one =

Translate »