স্বামীর কৃষি জমির ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবা নারী

স্বামীর রেখে যাওয়া কৃষি জমিতেও হিন্দু বিধবা নারীরা ভাগ পাবেন বলে পর‌্যবেকক্ষণ এসেছে উচ্চ আদালত থেকে।

এ বিষয়ে খুলনার এক বিধবা হিন্দু নারীর দেবরের করা আবেদন খারিজ করে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রায় দেন বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. আব্দুল জব্বার। বিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ নাফিউল ইসলাম। আদালতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে অভিমত প্রদানকারী আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার উজ্জ্বল ভৌমিক।

এ রায়ের পর ব্যারিস্টার উজ্জ্বল ভৌমিক সাংবাদিকদের বলেন, এটা একটি ঐতিহাসিক রায়। এ রায়ের ফলে বাংলাদেশের হিন্দু বিধবা নারীরা জীবদ্দশায় (জীবনস্বত্ব) তার স্বামীর রেখে যাওয়া কৃষি জমি ভোগদখল করতে পারবেন বলে আদালত পর‌্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এতদিন বিধবা নারীরা শুধুমাত্র অকৃষি জমির অধিকারী ছিলেন। এখন স্বামীর সব সম্পতিতে বিধবা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আইনজীবীরা জানান, খুলনার বটিয়াঘাটার হালিয়া গ্রামের অভিমন্য মণ্ডল মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া কৃষি জমি তার বিধবা স্ত্রী গৌরী দাসীর নামে রেকর্ড হয়। এই রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা করেন গৌরী দাসীর দেবর জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডল। আদালত ১৯৯৬ সালের ৩০ মে তার আবেদন খারিজ করে দেন।

পরে জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডল ওই রায়ের বিরুদ্ধে খুলনার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৭ মার্চ জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডলের আবেদন খারিজ করে দেন আদালত।

২০০৪ সালেই তিনি হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করেন। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বুধবার তা খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *