একগুচ্ছ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

দীর্ঘ ছয় মাস পর চলতি মাসে একগুচ্ছ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, চলতি মাসে ঘোষণা করা হবে আওয়ামী লীগের পাঁচ সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা শাখা সম্মেলনও শুরু হবে। আজ দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় কিছু নির্দেশনা আসবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ মাসে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানান তিনি।

জানা গেছে, ভার্চুয়াল রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়গুলোতে। দলীয় কর্মসূচিতেও বাড়ছে তাদের উপস্থিতি। প্রতি দুই মাস পরপর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে এবার ছয় মাস পর এ বৈঠক হতে যাচ্ছে। ঐ বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে যেসব জেলা-উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ সেসব জেলা-উপজেলায় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলা-উপজেলায় বর্ধিত সভা, মতবিনিময়, কর্মিসভার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া তালিকা ধরে বের করে দেওয়া হবে দলে অনুপ্রবেশকারীদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিতর্কিত অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে চায় আওয়ামী লীগ। ২০১৯ সালের দলের জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঠিক করার আগে সারা দেশে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র তিনটি জেলার সম্মেলন করা হয়। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ হওয়ার পর তড়িঘড়ি ২৯টি জেলা সম্মেলন শেষ করা হয়। এসব জেলায় সম্মেলন হলেও অধিকাংশের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সেখানে জেলা কমিটিগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রস্তুত হয়ে আছে। অনুপ্রবেশকারী কেউ যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি মাসে যে কোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে। এই সহযোগী সংগঠনগুলো হলো : কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মত্স্যজীবী লীগ এবং জাতীয় শ্রমিক লীগ। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও ঘোষণা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 3 =

Translate »