খাল ভরাট করে ইটভাটা: পানিতে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার একর জমির ফসল

ইটভাটা ও দোকানের নিচে বিলীন হয়ে গেছে মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার চাতোর খালের একাংশ।  এরফলে স্থানীয় নাগা বিলসংলগ্ন সুঁচোখোলা মাঠ ডুবে গেছে বর্ষার থই-থই পানিতে।  আর এতে তলিয়ে গেছে চলতি মৌসুমে ৫ হাজার একর জমির ফসল। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রভাবশালীদের কবল থেকে খাল উদ্ধারের মাধ‌্যমে ‍পুনঃখনন করে পানির প্রবাহ ঠিক না করলে ভবিষ‌্যতে এই অঞ্চলে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।  আর সংশ্লিষ্ট ইটভাটার মালিক বলছেন, সরকার চাইলে তারা খালের দখল ছেড়ে দেবেন।

খাল দখল সম্পর্কে দারিয়াপুর ইউনিয়নের গৌরিনগর গ্রামের আমিন (জমি জরিপকারী) আব্দুল মজিদ বলেন, ‘প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রায় ৫ কিলোমিটার প্রস্থের ফসলি ক্ষেতের মাঝের একটি অংশ নাগা বিল।  ওই ক্ষেতে কৃষকরা বছরের তিন মৌসুমে ফসল ফলান।  তবে, বর্ষায় পানি নিষ্কাশন করতে না পারলে কেবল এক মৌসুমের (চৈত্রমাসে) ধান ছাড়া বাকি দুই মৌসুমে ফসল উৎপাদন  সম্ভব হবে না। ’

জানতে চাইলে বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ফিরোজ আহমেদ মাস্টার বলেন, ‘এখানে আমার ৪ বিঘা জমির আমন ধান ও দেড় বিঘা জমির কচু ডুবে গেছে।  দেড় বিঘা জমিতে আগাম বাঁধা কপির চাষ করেছিলাম।  কিন্তু পানিতে জমি ডুবে যাওয়া বাঁধা কপি নষ্ট হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এভাবে হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।  এই মৌসুমের ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।  আগামী রবি মৌসুমের ফসলও আবাদ করতে পারবে কি না, সন্দেহ রয়েছে।  এভাবে চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা শত কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির মুখে পড়বেন। ’

গৌরীনগর গ্রামের ফকরুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ ও দারিয়াপুর গ্রামের কুতুবউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আগে দারিয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল জলিল সরকারি সহায়তায় সুঁচোখোলার মাঠ থেকে নাগাবিল হয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার চাতোর খাল খনন করেন। যা গৌরীনগর গ্রামের মধ্যে দিয়ে ভৈরব নদে পড়ে। ’

হারুন, কবির, কালাম ও কাশেমসহ মাঠে কর্মরত কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘খাল দখল হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার একর জমির আমন ধান, পাট, কচুসহ সব ধরনের মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।  অনেক কৃষক ক্ষতি কমাতে পানির নিচে থেকে ধান কেটে নৌকায় করে ডাঙায় তুলছেন। শিগগিরই পানি নিষ্কাশনের জন‌্য চাতোর খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখনন না করলে শত শত কৃষককে পথে বসতে হবে।’

খালের ওপর তৈরি মুকুট ব্রিকস-এর মালিক লিংকন বলেন, ‘মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের পূর্বপাশ থেকে গৌরীনগর গ্রামের মধ্যে এক কিলোমিটার দৈর্ঘ‌্যের পরিত্যক্ত খালটি ভরাট করে বাড়িঘর ও দোকান স্থাপনসহ যে যার মতো কাজে লাগিয়েছেন। সরকার চাইলে জনস্বার্থে আমরা আমাদের স্থাপনা সরিয়ে নেবো। ’

দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বোকুল বলেন, ‘৫ হাজার একরেরও বেশি জমির উঠতি ফসল পানির নিচে। কৃষকের জমির জলবদ্ধতা রোধে খাল পুনঃখনন জরুরি।’

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার বলেন, ‘জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এলাকা পরিদর্শন করেছি।  শিগগিরই খালটি পুনরুদ্ধারসহ পুনঃখনন করা হবে।’  প্রয়োজনে খালে ডাবল স্লুইজ গেট করা হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − twelve =

Translate »