রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর কার্যক্রম শুরু করতে না পারা সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিন বছরেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর কার্যক্রম শুরু করতে না পারা সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, এ সরকার শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু নয়, করোনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থ হচ্ছে, যা তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের কথা বলে ঢেকে রাখতে চায়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চলছেই। সরকার এখনো সেই মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সরকারের প্রকৃত মনোভাব কী, সেটা সবশেষ সোমবার বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসূচির ওপর ন্যক্কারজনক হামলার মধ্য দিয়ে আরো একবার স্পষ্ট হয়েছে। এখানে যাঁরা উপস্থিত আছেন সবাই খ্যাতনামা মুক্তিযোদ্ধা, রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদেরও কারাগারে যেতে হয়েছে এবং নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। শুধু একটি কারণে, কারণ তাঁরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান। ঠিক একইভাবে গতকাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি দলের সংসদ সদস্যের গুণ্ডা বাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং আহত করেছে। শুধু একটাই কারণ- কেন সংসদ সদস্যকে সমর্থন করা হলো না। আমরা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সম্মান নেই। আর এখন বাংলাদেশকে একটি নতজানু ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা চলছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেহেতু এ দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন এবং এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেশকে একটি সমৃদ্ধশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলেন, গণতন্ত্রকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। সেজন্যই আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর (জিয়াউর রহমান) অবদানকে খাটো করে দেখানোর জন্য ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে তাঁকে জড়ানোর একটি প্রচারণা-প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমরা বারবার বলছি, এটা একটা ষড়যন্ত্র এবং সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এটির বিচার হয়েছে এবং যারা আসামি তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, সেখানে আবার নতুন করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম জড়ানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এবং এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিশ্বাসের ওপর একটি অবমাননা বলে আমি মনে করি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জড়িত করার যে অবস্থা সেটা এরই একটি অংশ।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং নির্যাতন-নিপীড়নের একটা দুঃশাসন চলছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখছি, এই যে কোভিড-১৯, যা সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকেও তছনছ করে দিয়েছে, সেই সময়ে এই অবৈধ সরকারের সম্পূর্ণ উদাসীনতা ও অযোগ্যতা পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। মানুষের জীবনের ও জীবিকার কোনো মূল্য না দিয়ে তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, আজকের এই দুঃসময়ে জনগণের নিরাপত্তা ও মানুষের জীবিকা ও জীবনের নিশ্চয়তা দিতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যথাক্রমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জড়িত করার প্রচেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত- তারই একটি অংশ এটি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বারবার এ দেশে যাঁরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছেন, যাঁরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন, যাঁরা নতজানু পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করে না তাঁদের বিরুদ্ধে তাঁরা ষড়যন্ত্র করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =

Translate »