হারের পর এভাবে কাঁদছিলেন কেন নেইমার?

কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন পাথরে গড়া মূর্তি হয়ে গেলেন হঠাৎ। চারপাশে হচ্ছিল অনেক কিছু, কেউ উল্লাসে মেতেছেন, কেউ হতাশায় দুহাতে মাথা ঢেকে রেখেছেন, কেউবা তখনো ঠাওর করে উঠতে পারছিলেন না কী হলো! এর মাঝে নির্বিকার এক ভাব মুখে এঁটে দাঁড়িয়ে রইলেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে। কাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে পিএসজির হেরে যাওয়াটা কোনোই আঁচ ফেলেনি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া ফুটবলারের মাঝে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার এসব রাখঢাকে গেলেন না। শেষ বাঁশি বাজার পর পরই নেইমার মাথা ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এমনই অবস্থা যে, দলের শিরোপা উৎসব বাদ দিয়ে বায়ার্ন ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গেলেন নেইমারকে সান্ত্বনা দিতে। টানা কয়েক মিনিট ধরে নেইমারকে শান্ত করার চেষ্টা করেও কাজ হলো না। এমনকি বায়ার্ন কোচ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে কোচিং করাতে এসে শিরোপা জেতার মতো কীর্তি গড়ার আনন্দের মাঝেও চলে এলেন নেইমারের কাছে। মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে এমন এক তারকা কান্নাকাটি করলে ওটাই যে স্বাভাবিক।

৪০ কোটি ইউরোর বিনিয়োগের পরও পিএসজির প্রাপ্তি হতাশা।

৪০ কোটি ইউরোর বিনিয়োগের পরও পিএসজির প্রাপ্তি হতাশা।

স্বপ্নের ফাইনাল হারার পর নেইমার ও এমবাপ্পের এমন ভিন্ন রূপ তখন নাসের আল খেলাইফির কেমন লেগেছে সেটা হয়তো পরে কখনো জানা যাবে। হাজার হলে ৪০ কোটি ২০ লাখ ইউরো খরচ করে এ দুই তারকাকে একটা উদ্দেশ্যেই এনেছিলেন পিএসজি সভাপতি-তাঁকে চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দিতে হবে। তিন বছর পর মোক্ষম এক সুযোগ এসেছিল কিন্তু ফাইনালে দুই মহাতারকার মৌসুমের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স ডুবিয়েছে দলকে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর একটু ধাতস্থ হতেই অবশ্য ধৈর্যের প্রতিমূর্তি খেলাইফি, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। দারুণ এক মৌসুম কাটিয়েছি, দারুণ টুর্নামেন্ট খেললাম। কেউ ভাবেনি আমরা ফাইনাল খেলব। জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম কিন্তু এটাই ফুটবল। আগামী মৌসুমে আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার চেষ্টা করব কারণ এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

কিন্তু আগামী মৌসুমে নেইমার সে লক্ষ্য পূরণের সঙ্গী হবেন কি না এ নিয়ে সন্দেহ জাগতেই পারে। নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে এসেছিলেন পিএসজিতে। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন এমবাপ্পেকে। প্রতি দলবদলেই এ দুজনের সঙ্গে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের নাম জড়ায়, তখন তিন বছর তাদের ক্লাবে ধরে রাখার জন্য কৃতিত্ব পাবে পিএসজি। আর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেই সবাইকে ভুল প্রমাণ করার সুযোগ ছিল এমবাপ্পের কাছে। বার্সেলোনার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফেলে পিএসজির হয়ে ইতিহাস গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কাল প্রমাণ করার তাগিদ ছিল নেইমারে। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর তাঁকেই কেন সেরা বলে মানা উচিত সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ ছিল তাঁর।

নেইমার সেটা করে দেখাতে পারেননি। নিজে ভালো খেলেননি। আগের ম্যাচের ঝলক ফাইনালে দেখানো হয়নি তাঁর। ওদিকে যে কয়েকটা সুযোগ বানিয়ে দিয়েছেন, সেগুলোও কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে ও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। দুই মহাতারকার ব্যর্থতা আড়াল করতে চেয়েছেন কোচ টুখেল। বলেছেন, ‘আমরা চাই নেইমার ও কিলিয়ান গোল করুক কিন্তু সব সময় তো সেটা আশা করতে পারেন না। আমি গর্বিত কারণ “নেই” খুবই দারুণ ম্যাচ খেলেছে, সে তার মানসিক শক্তি দেখাতে পারছে। কিলিয়ানের জন্য কাজটা কঠিন ছিল, খুবই বাজে একটা চোট পেয়েছিল, অনেক অনুশীলন করতে পারিনি। সে আমাদের সঙ্গে আজ মাঠে ছিল, এটাই অলৌকিক।’

টুখেল তাঁর তারকাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন চোট ও ভালো খেলার আড়ালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখা থাকবে, ২০২০ চ্যাম্পিয়নস লিগ পিএসজি নয়, বায়ার্ন মিউনিখ জিতেছে। আর এ ব্যর্থতার দায়টা নেইমারের ঘাড়েই পড়বে। আলাবা, টুখেল কিংবা খেলাইফিদের সান্ত্বনার কি সে শক্তি আছে নেইমারের কান্না থামানোর!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *