যেমনটা ভাবা হয়েছিল, ঠিক সেই মেজাজেই ধরা দিলেন কমলা হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি তুখোড় বাক্যবাণ আর আগ্রাসী মেজাজে তুলোধনা করলেন রিপাবলিকানদলীয় বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

ব্যাপক জল্পনা শেষে মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাট দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কমলাকে মনোনীত করার কথা ঘোষণা করেন জো বাইডেন। নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। কমলার নাম ঘোষণার পরে বুধবার ডেলাওয়্যারের উইলমিংটন শহরে প্রথম প্রচারসভা করেন জো-কমলা জুটি।

গত সাড়ে তিন বছরের ট্রাম্প প্রশাসন কী কী ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মনোনীত হওয়ার পর প্রথম সমাবেশেই তার দীর্ঘ তালিকা পেশ করেন কমলা হ্যারিস। প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ব্যর্থ, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অযোগ্য কাউকে নির্বাচিত করলে, তার ফল এই রকমই হবে’।

কমলা বলেন, বিশ্বে আমাদের দেশ ও দেশের সম্মান আজ ভূলুন্ঠিত। ওরা কী করেছে; দেড় কোটি মানুষের কাজ নেই। লাখ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। দারিদ্র্য মাথাচাড়া দিচ্ছে। কৃষ্ণাঙ্গ, অ-শ্বেতাঙ্গ এবং দেশের আদি বাসিন্দারা আজ ঘরহারা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে প্রতি পাঁচ জন শিশুর একজন‘।

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান করোনা সংকটের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন কমলা। ছয় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কমলা বলেন, ‘তখনও মহামারির রূপ নিয়েছিল ইবোলা। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন।’

কমলা হ্যারিস জানান, ‘সেই মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই তুলনায় আজকের (করোনায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি) কথাটা ভাবুন। অন্য দেশগুলো যখন করোনা সংক্রমণের হার কমাতে বিজ্ঞান মেনে চলছে, তখন ট্রাম্পের ভরসা মির‌াকলে’।

মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলা নিয়ে ট্রাম্পের গা-ছাড়া মনোভাবকেই এর জন্য দায়ী করেছেন কমলা হ্যরিস। তার মতে, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে নিজের মতামতকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। যার ফল আজ ভুগছে গোটা দেশ; যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৮০ সেকেন্ডে একজন করোনায় মারা যাচ্ছেন।

করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এ দিনের সভায় সাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়। পারস্পরিক দূরত্ববিধি মেনে সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা ছিল। মঞ্চে জো বাইডেন আর কমলা হ্যারিস— উভয়কেই মাস্ক পরে থাকতে দেখা গেছে। তবে হ্যারিসকে পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।

বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে কমলাকে ‘উন্মাদ নারী’ বলেছেন তিনি। দেশের অর্থনীতির দুর্দিন প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনা পরিস্থিতির আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এতটাই তুঙ্গে ছিল যে স্বয়ং জর্জ ওয়াশিংটন (আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট) এলেও তাকে (ট্রাম্প) হারাতে পারতেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *