জাপানে বৃষ্টি-বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জাপানে ভয়াবহ বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যার পানিতে ভাসছে দক্ষিণ জাপানের বিভিন্ন এলাকা। সোমবার পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে নদীর ধারের একটি নার্সিংহোম থেকেই ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পানিতে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে আরও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে। এর মধ্যেই কিউশুর মূল দ্বীপে আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

কুমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। দু-কূল ভাসিয়ে উপচে পড়ছে পানি। নদীর পাড় বরাবর থাকা বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর সঙ্গেই রয়েছে অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। কুমা নদীর প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে গেছে স্থানীয় একটি সেতু। ভূমিধসেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ জাপানের কুমামোটা ও কাগোশিমা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অন্তত ১১ স্থানে নদীর পানি বেড়ে গেছে। কুমামোটা এলাকায় এখনও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, হিতোয়োশি শহরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশিকিতাতে এলাকায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৯ জনের। এরই মধ্যে লাখো বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্তত ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে। সংক্রমণের বিস্তার রোধে আশ্রয় শিবিরে থাকা সবাইকে কোভিড নির্দেশিকা মেনে বারবার হাত ধুতে বলা হয়েছে।

যদিও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরিস্থিতি নেই সেখানে। একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে সব পদক্ষেপই আমরা নিয়েছি।

বন্যার ব্যাপকতার সঙ্গে মৃত্যুও আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন উপকূলরক্ষী বাহিনী ও দমকলের কর্মীরা। সবমিলিয়ে ৪০ হাজার উদ্ধারকারী মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *