এসএমপি: গ্রামীণফোনের ওপর নতুন বিধিনিষেধ

গ্রাহকসংখ্যায় দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনকে ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ বা এসএমপি ঘোষণার এক বছরের মাথায় নতুন দুটি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি।

প্রথম নির্দেশনায় গ্রামীণফোনের নতুন সেবা, প্যাকেজ বা অফার চালু করা কঠিন করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় নির্দেশনায় নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকের গ্রামীণফোন ছাড়ার সুযোগ সহজ করা হয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ‘একক আধিপত্য তৈরির অবস্থা’ যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে ‘গ্রাহকের স্বার্থে’ এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রামীণফোন বলেছে, বিটিআরসির এসব নতুন নির্দেশনাই বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থি।

রোববার গ্রামীণফোনকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে বিটিআরসির আগাম অনুমোদন ছাড়া গ্রামীণফোন নতুন কোনো সেবা, প্যাকেজ বা অফার দিতে পারবে না। বিদ্যমান সেবা, প্যাকেজ, অফার পরিবর্তন করতে চাইলেও কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। আর এখন যেসব সেবা, প্যাকেজ বা অফার চালু আছে, সেগুলো আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে নতুন করে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

দ্বিতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের বেলায় ‘লকিং পিরিয়ড’ হবে ৬০ দিন, যেখানে অন্য অপারেটরদের ক্ষেত্রে তা ৯০ দিন। এই নির্দেশনাও ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

একজন গ্রাহক তার নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলানোর পর আবারও অপারেটর বদলাতে চাইলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয়, একে বলা হয় লকিং পিরিয়ড।

বিটিআরসির নতুন নির্দেশনার ফলে কেউ গ্রামীণফোন ছাড়তে চাইলে তিন মাসের বদলে দুই মাস পার হলেই নতুন অপারেটরে যেতে পারবেন।

চিঠিতে বিটিআরসি বলেছে, করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কলরেটের শর্ত (সর্বনিম্ন ৫০ পয়সা/মিনিট) আপাতত আরোপ করা হল না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে।

আর কল টার্মিনেশন থেকে গ্রামীণফোনের আয় কমিয়ে দেওয়ার (মিনিটে ১০ পয়সার বদলে ৫ পয়সা) বিষয়ে আরও যাচাই বাছাই করে কমিশন পরে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয় চিঠিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *