আমেরিকাকে আবার মহান করার ডাক ট্রাম্পের

নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠরাই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। ওকলাহোমায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজের সমর্থকদের এভাবে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করেন। নৈরাজ্যবাদীদের হাত থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আমেরিকাকে আবার মহান করার ডাক দিয়ে সমাবেশে ডেমোক্র্যাট, উদারনৈতিক মিডিয়া ও সাম্প্রতিক আন্দোলনকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

গত তিন মাসে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ১ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে আমেরিকায়। মৃত্যুর এ পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ২০ জুন দেশটির দক্ষিণের রাজ্য ওকলাহোমা সফর করেছেন ট্রাম্প। ওকলাহোমার টালসা নগরীতে সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের জন্য সমর্থন চেয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে স্লিপি বাইডেন উল্লেখ করে পুনর্নির্বাচনে হারাবেন বলে নিজের প্রত্যয়ের কথা বলেন।

ওকলাহোমায় নির্বাচনী সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এখনো করোনার সংক্রমণ শেষ হয়নি। বেশ কিছু রাজ্যে করোনার সংক্রমণ এখনো বাড়ছে। এর মধ্যেই লাখো মানুষের সমাবেশ নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। উদারনৈতিক মহল সমাবেশের কাছাকাছি ব্যাপক প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের প্রতি নিউইয়র্কের মতো আচরণ করা হবে না। শক্ত হাতে যেকোনো বিক্ষোভ সামাল দেওয়া হবে। টালসার মেয়র জি টি ব্যায়নাম ১৬ জুন থেকে নগরীজুড়ে সিভিল ইমার্জেন্সি জারি করে রেখেছেন। সমাবেশ বন্ধ করার জন্য আদালতে গিয়েছিলেন স্থানীয় দুই আইনজীবী। সমাবেশকে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি উল্লেখ করে আদালতের আদেশ দিয়ে তা বন্ধ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ব্যাপক নিরাপত্তা নিয়েও প্রচার অনুযায়ী জনসমাবেশ হয়নি। সংক্রমণ নিয়েও সচেতনতা কাজ করেছে। সমাবেশে যোগ দেওয়া লোকজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ট্রাম্পের প্রচার টিমের অগ্রবর্তী ছয়জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ট্রাম্প সমর্থকদের অনেককেই মাস্ক ছাড়া সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। কেউ কেউ বলেছেন, এ ভাইরাস তাঁদের সংক্রমণ করবে না।

সমাবেশে করোনাভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেছেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমেরিকাজুড়ে রক্ষণশীল বিচারকদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। আসছে নভেম্বরের মধ্যেই প্রায় ৩০০ বিচারকের নিয়োগ তিনি সম্পন্ন করবেন। পরের চার বছরেও এ কাজ অব্যাহত থাকবে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের দুজন রক্ষণশীল বিচারপতির নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রশংসা করেন। এমন আরও বিচারপতি নিয়োগ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন চরম বামপন্থীদের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, জো বাইডেন নিজে কিছুই নন, চরম বামদের পুতুল হয়ে উঠেছেন। জো বাইডেনকে যারা সমর্থন করছে, তাদের নৈরাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ তিনি বলেন, তাঁরা লুটতরাজ ও সহিংসতায় নিয়োজিত লোকজনকে জামিন পাওয়ার জন্য অর্থ সহযোগিতা করেছেন। জো বাইডেনকে চীনের পুতুল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমরা জানি, বাম নৈরাজ্যবাদীরা পোর্টল্যান্ডে ওয়াশিংটনের মূর্তি নামিয়ে দিয়েছে, পতাকায় আগুন দিয়েছে, ভবন পুড়িয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটতরাজ করেছে, শত শত পুলিশ অফিসারকে আহত করেছে। আর ভুয়া সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, কী সুন্দর প্রতিবাদ হয়েছে।’

ট্রাম্প তাঁর সমাবেশের বাইরে প্রতিবাদকারীদের ‘খুব খারাপ লোক’ উল্লেখ করে তাঁর সমাবেশে যোগদানকারীদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকার সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর অধিকার তারা কেড়ে নিতে চায়, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার কেড়ে নিতে চায়। বাইডেন নিজেই এখন জানেন না, তাঁর অবস্থান কোথায়। উদারনৈতিক কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও ও ইলহান ওমরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এঁরাই বাইডেনের সঙ্গে এখন।

সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় কাবু হয়ে পড়া ট্রাম্প তাঁর পুনর্নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। সমর্থকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশকে বিভক্তির পক্ষেই বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর প্রচার শিবিরের লক্ষ্য প্রান্তিক আমেরিকার ট্রাম্প-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করা। গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব সমর্থক রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দিতে কেন্দ্রে যাননি। তাঁদের উদ্দীপ্ত করে ভোটকেন্দ্রে নেওয়াই ট্রাম্পের লক্ষ্য। নগরকেন্দ্রের বাইরে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী এবং মধ্যপন্থী দোদুল্যমান ভোটারদের ট্রাম্প ঐক্যবদ্ধ করতে চান। তাঁর পক্ষের জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিত করতে চান—আমেরিকার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার তাঁর পক্ষেই করা সম্ভব। এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রচারণা বক্তব্য সাজিয়েছিলেন। আমেরিকা আমেরিকানদের হাতছাড়া হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর রক্ষণশীল সমর্থকদের উদ্দীপ্ত করার বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছেন প্রচার সমাবেশের বক্তব্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *