গোপালগঞ্জে ‘পিটুনিতে’ কৃষকের মৃত্যু: আসামি এএসআই গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় পুলিশের এক এএসআইসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত নিখিলের ভাই মন্টু তালুকদার বাদী হয়ে রোববার রাতে কোটালীপাড়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিরা হলেন কোটালীপাড়া থানার এএসআই শামীম হাসান ও কোটালীপাড়া পৌর এলাকার কয়খাঁ গ্রামের রেজাউল (৪০)।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে কোটালীপাড়ার রামশীল বাজার এলাকায় পিটুনিতে নিখিল তালুকদার গুরুতর জখম হন। পরদিন ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে তিনি মারা যান।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান জানান, হত্যা মামলাটি রোববার রাতেই রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামি এএসআই শামীম হাসানকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ রেজাউলকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান ওসি লুৎফর।

নিহত নিখিল তালুকদার কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল গ্রামের নীলকান্ত তালুকদারের ছেলে।

মামলার বাদী মন্টু তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে রামশীল বাজারের ব্রিজের পূর্ব পাশে তার ভাই নিখিলসহ চারজন সময় কাটাতে তাস খেলছিলেন। এ সময় কোটালীপাড়া থানার এএসআই  শামীম হাসান একজন ভ্যান চালক ও রেজাউলকে সাথে নিয়ে  ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা গোপনে মোবাইল ফোনে তাস খেলার দৃশ্য ধারণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে তাস খেলো রেখে তিনজন পালিয়ে গেলেও নিখিলকে এএসআই শামীম হাসান ধরে মারপিট শুরু করেন।

“এক পর্যায়ে হাঁটু দিয়ে নিখিলের পিঠে আঘাত করেন শামীম। এ কাজে রেজাউল তাকে সহায়তা করেন। এতে নিখিলের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।”

মন্টু বলেন, নিখিলকে প্রথমে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বুধবার বিকালে নিখিল মারা যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিখিলের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং বৃহস্পতিবার মহরদেহ রামশীল গ্রামে দাহ করা হয়।

মামলার বাদী আরও বলেন, এ ঘটনার পর প্রভাবশালী একটি মহল গোপানে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। থানায় মামলা না করে পরে তারা বাধ্য হয়ে শনিবার সালিশ বৈঠকে যান। সেখানে পাঁচ লাখ টাকায় এটি দফা রফা করা হয়। সেখানে নিখিলের পরিবারের দুই সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

“এতে আমরা সম্মত ছিলাম না; কিন্তু সেখানে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার সাহস আমাদের ছিল না। দুই লাখ টাকা নিয়ে আমরা সালিশ মেনে কোনোরকমে চলে আসি। আসলে সেভাবে আপস মীমাংসা হয়নি। তাই অবশেষে ন্যায্য বিচার পেতে আমরা মামলা দায়ের করেছি।”

তবে চাপ প্রয়োগকারী প্রভাবশালীদের নাম তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।

গোপালগঞ্জ জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবু হোসেন বলেন, পরিবারটি প্রভাবশালী চক্রের অপতৎপরতা থেকে বেরিয়ে এসে অবশেষে মামলা দায়ের করেছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আর কেউ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার দুঃসাহস  দেখাতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *