কোভিড-১৯: ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সরিয়ে ফেলল ব্রাজিল

ব্রাজিলের একটি সরকারি ওয়েবসাইট থেকে দেশটিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও মৃত্যু সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটির কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো পরে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত এ তথ্যভাণ্ডারের পরিবর্তন ও দৈনন্দিন পরিস্থিতির তথ্য দেয়ার সময় বদলানোর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

শনিবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারি ওই ওয়েবসাইট থেকে আগের সব তথ্য সরিয়ে নেয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কোভিড ডট সাউদে ডট গভ ডট বিআর সাইটটিতে এতদিন সংক্রমণের শুরু থেকে অঙ্গরাজ্য ও শহরওয়ারি প্রতিদিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব দেয়া ছিল।

শুক্রবার ওয়েবসাইটটি সরিয়ে নেয়ার পর শনিবার একই ঠিকানায় নতুন বিন্যাস নিয়ে সাইটটি হাজির হয়। তথ্য থাকে কেবল শুক্রবারের ২৭ হাজার ৭৫ আক্রান্ত ও ৯০৪ মৃত্যুর।

নতুন এ বিন্যাসে ব্রাজিলে নতুন করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত-মৃত্যুর হিসাবও স্থান পায়নি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ হিসাবে দেশটিতে এরই মধ্যে ৬ লাখ ৭২ হাজার মানুষের দেহে কোভিড-১৯ রোগ ধরা পড়ার কথা জানানো হয়েছে।

আক্রান্তের তালিকায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিল করোনাভাইরাসে মৃত্যুতে কয়েকদিন আগেই ইতালিকে ছাড়িয়েছে।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ ৩৫ হাজার ৯৩০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মৃত্যু সংখ্যায় দেশটির উপরে কেবল যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

সংক্রমণের এ বেহাল দশা সত্ত্বেও সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সরিয়ে নেয়ার ঘটনা ব্রাজিলজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট পরে টুইটারে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, মোট মৃত্যু ও আক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য ব্রাজিলের সত্যিকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।

কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই করোনাভাইরাস মহামারীর বিপদকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

মতের মিল না হওয়ায় বোলসোনেরো এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের বসিয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা সংক্রমণ মোকাবেলায় লকডাউনসহ যেসব বিধিনিষেধ দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট প্রথম থেকেই তার সমালোচনাও করে আসছিলেন।

কী কারণে ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

দেশটির কর্তৃপক্ষ শুরু থেকে সাধারণত স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার দিকে আগের দিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ তথ্য দিতে দিতে রাত ১০টার মতো বেজে যাচ্ছে।

ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সরানো এবং দৈনন্দিন পরিস্থিতির তথ্য জানানোর সময়ের রদবদলকে সরকারের ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর তথ্য লুকানোর অভিপ্রায় হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।

“মহামারী মোকাবেলায় তথ্যের স্বচ্ছতা খুবই শক্তিশালী উপকরণ,” বলেছেন ব্রাজিলের প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পলা জেরোনিমো।

বোলসোনেরো অবশ্য এসব সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না।

শনিবার টুইটারে তিনি বলেছেন, অসঙ্গতি এড়াতে এবং কেউ যেন বাদ না পড়ে যায় তা নিশ্চিত করতেই আগের তুলনায় সামান্য দেরিতে তথ্য দেয়া হচ্ছে।

ব্রাজিলের এ প্রেসিডেন্ট এর আগে ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় লকডাউনের কার্যকারিতার উপর জোর দেয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নেরও হুমকি দিয়েছিলেন।

বিধিনিষেধ দেশের অর্থনীতিকে ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বলেছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *