ঘুমন্ত সন্তানকে টেনে নিয়েই হেঁটে চললেন মা

বাড়ি ফিরতে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ। কিন্তু ছোট্ট শরীর আর কিছুতেই চলছিল না। এ অবস্থায় ক্লান্ত শিশুটি মায়ের হাতে ধরা সুটকেসের ওপরই ঘুমিয়ে পড়ে। এতে সুটকেসের ওজন হয়ে ওঠে দ্বিগুণ ভারী। কষ্ট হলেও সন্তানসহ সুটকেসটি একই তালে টানতে থাকেন মা। কারণ পিছিয়ে পড়লে তাকে দলছুট হতে হবে।
সম্প্রতি এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রায়। দেশজুড়ে লকডাউন চলায় ছেলেকে নিয়ে ছোট একটি দলের অংশ হয়ে এভাবেই বাড়ি ফিরতে দেখা যায় তাকে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, পাঞ্জাব থেকে পরিযায়ী ওই নারী শ্রমিক একটি দলের সঙ্গে ঝাঁসিতে ফিরছিলেন। দুই স্থানের মধ্যে দুরত্ব ৮০০ কিলোমিটার হলেও হেঁটেই সেই পথ অতিক্রম করোর চেষ্টা ছিল দলটির।
লকডাউনে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাসের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও অনেক স্থানে সে ব্যবস্থা দেখা যায়নি। সন্তানকে নিয়ে হেঁটে চলা পরিশ্রান্ত নারীকে এমন বাসের খোঁজ জানেন কিনা জানতে চাইলেও মেলেনি উত্তর। বরং যত দ্রুত গতিতে সম্ভব সন্তানকে টেনে হাঁটতে দেখা যায় ওই পরিযায়ী নারী শ্রমিককে।
ওই নারীর মতো ভারতের বহু স্থানে পরিযায়ী শ্রমিকরা এভাবেই কষ্ট স্বীকার করে বাড়ি ফিরছেন। এর আগে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কারাখানা বন্ধের পর একদল পরিযায়ী শ্রমিককে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। এর মধ্যে এক লোককে ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দুই সন্তান, বিছানা সাইকেলে চাপাতে দেখা গেছে।
করোনা সংক্রমণ এড়াতে মার্চের শেষ থেকে ভারতে লকডাউন শুরু হয়। এতে অনেক পরিযাযী শ্রমিকই কাজ হারিয়ে খাদ্য-বাসস্থানের অভাবে পায়ে হেঁটে নিজের রাজ্যে ফিরতে বাধ্য হন। এতে তারা কি পরিমাণ কষ্টের মধ্যে পড়ছেন তার নানা উদাহরণ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সামনে এসেছে। হাঁটার পাশাপশি কেউ কেউ সাইকেলে, কেউ বা ট্রাক, বা অটোতে করে পাড়ি দিচ্ছেন শত শত মাইল।
পথ চলতে চলতে অনেকে রাস্তাতেই প্রাণ হারাচ্ছেন। কেউ দুর্ঘটনায়, কেউ বা ক্লান্তিতে, কেউ অসুস্থতায়, কেউ বা ক্ষুধায় মারা গেছেন।
পরিযায়ী ম্রমিকদের জন্য বাস বা ট্রেন চালু করা হলেও যারা এরই মধ্যে যারা পথে নেমে পড়েছেন, তাদের খুব একটা লাভ হয়নি। অনেকের কাছেই আবার টিকিটের দামও নাগালের বাইরে। তারপরও শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে চান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *