উন্নয়ন খেয়ে ফেলছে গঙ্গা ফড়িং : মেনন

দলের একাংশের বর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ১০ম কংগ্রেস শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশে উন্নয়ন হলেও তা গঙ্গা ফড়িং খেয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে এখনই সতর্ক হতে হবে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তন চত্ত্বরে চার দিন ব্যাপী এই কংগ্রেস শুরু হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস উদ্বোধনের পর মিলনায়তনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। এ সময় শোক প্রস্তাব উত্থাপন পার্টির প্রয়াত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর চীন, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ ৫৭টি দেশের বামপন্থী ও কমিউনিস্ট পার্টির পাঠানো শুভেচ্ছা বাণী পড়ে শোনানো হয়।

কংগ্রেসে সারাদেশ থেকে আসা সাত শতাধিক প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষক অংশ নিলেও অনুপস্থিত ছিলেন পার্টির একাংশ। পার্টির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ ও নূরুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই কংগ্রেস বর্জনের আহ্বান জানান। আর পার্টির আরেক পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের অনুসারিরা এই কংগ্রেসে অংশ নেননি বলে জানাগেছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সা¤প্রদায়িকতার উত্থান ঘটেছিলো বলে একটি বিশেষ বাস্তবতায় স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির সঙ্গে পার্টির ঐক্য গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। সেই বাস্তবতা এখনো শেষ হয়নি।

সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সাবেক মন্ত্রী মেনন বলেন, দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নে দেশের সব মানুষ ভাগীদার হয়নি। কিছু মুষ্টিমেয় মানুষদের হাতে প্রচুর অর্থবিত্ত হয়েছে। তারাই দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করছে।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন উই পোকায় খেয়ে যাচ্ছে বলা হলেও আসলে গঙ্গা ফড়িং-এ খাচ্ছে। উড়ে এসে জুড়ে বসে সব লুটে নিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের ওয়ার্কার্স পার্টি সব সময় থাকবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এর আগে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা কারও ঘাড়ে হাত রেখে রাজনীতি করব না। কারও ছায়াতলে আমরা রাজনীতি করব না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজস্ব সংগ্রাম ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে রাজনীতি করব।

তিনি আরো বলেন, সুশাসনের অভাবে লুটেরাদের হাতে জনগণ জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতি বেড়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল যে ২৩ দফা দাবির উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল, তা কতোটা সফল হয়েছে, তা পর্যালোচনার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 8 =

Translate »